২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াল সেই গ্রেনেড হামলার আজ ১৮ বছর । এ হামলায় নিহত হন ২৪ নেতাকর্মী। আহত হন ৫ শতাধিক।
এই আহতদের একজন মাহবুবা পারভীন। তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বুকে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি।
পাঁচ বছর হুইলচেয়ারে আর সাত বছর ক্রাচে ভর করার দুঃসহ জীবন শেষ হয়েছে মাহবুবা পারভীনের। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর এখন কিছুদূর একা একা হাঁটতে পারেন তিনি, বেশিক্ষণ হাঁটলে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, ভারসাম্য রাখতে পারেন না। শারীরিকভাবে কিছুটা ভালো থাকলেও নানা কারণে মানসিকভাবে বিষণ্ণ।
শরীরের ভেতরে এক হাজার সাতশ' ৯৮টি স্প্লিন্টারের জ্বালাপোড়ায় সারারাত ঘুমাতে পারেন না এই মৃত্যুঞ্জয়ী।
শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকে জয় করে পার করেছেন ১৮ বছর। নতুন উদ্যমে সামনে এগোনোর চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি তিনি।
গণমাধ্যমকে জানালেন তার ভয়াবহ স্মৃতির কথা। জানালেন, মৃত ভেবে কোন চিকিৎসক তখন তাকে কেউ ধরেনি। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ আশিক কুমার মজুমদার চিকিৎসকদের অনুরোধে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে খুব আদর করেন। তাঁকে রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট দিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে জনতা ব্যাংকে তাঁর হিসাবে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা। সেই টাকা দিয়ে বাবার দেওয়া জমিতে একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। অর্থাভাবে বাড়ির ফটক ও সিঁড়ির রেলিং করতে পারেননি। দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে স্ত্রীসহ ডেনমার্ক থাকেন। আরেক ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তাঁর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট এম এম মাসুদ ২০১৬ সালে মারা যান।
মাহবুবা বলেন, তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ২০০৯ সালে । তিনি এখনো রাজনীতি করতে চান। তাঁর এখন একটাই চাওয়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী হয়ে কাজ করা। আর এ জন্য সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের মূল দলে একটি পদ চান তিনি।