নিজের রিকশায় আইফোন ১৩ প্রো-ম্যাক্স মডেলের একটি মোবাইল ফোন পেয়ে ফেরত দেওয়া সেই রিকশাচালক আমিনুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
রোববার (২১ আগস্ট) ডিএনসিসি কার্যালয়ের হলরুমে আমিনুল ইসলামের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন তিনি। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ওই রিকশাচালককে এই পুরস্কার দেন মেয়র।
এ সময় আতিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের মধ্য থেকে এখনো সততা উঠে যায়নি। একজন রিকশাচালক দিনে আর কত টাকাই বা আয় করেন। চাইলে তিনি ওই ফোনটি বেঁচে দিতে পারতেন। তা না করে ফোনের মালিককে খুঁজে বের করে ফোনটি তার হাতে তুলে দিয়েছেন।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা বিরল। আমরা তার এ কাজকে উৎসাহিত করতে তাকে পুরস্কৃত করলাম। আমাদের সবাইকে আমিনুলের মতো হতে হবে।
অনুভূতি প্রকাশ করে রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কারো জিনিস পেয়ে সেটি নিজের কাছে রেখে দিবো এমন কথা কখনো ভাবি না। এর আগেও বিভিন্ন সময় লোকজনের রেখে যাওয়া ব্যাগ, কাগজপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি। যে টাকা পেলাম এতে আমি আনন্দিত। দেশের সকল মানুষ যদি একটু চেষ্টা করে তাহলেই সৎভাবে চলা সম্ভব।
সন্তানদের পড়াশোনা এবং সংসারের কাজে টাকাগুলো ব্যয় করবেন বলেন জানান আমিনুল।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট আমিনুলের রিকশায় যাত্রী বসার গদির ফাঁকে বন্ধ অবস্থায় রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম একটি মুঠোফোন (আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স) পান। ৯ আগস্ট পুলিশের মাধ্যমে মুঠোফোনটি তিনি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন।
রিকশাচালক আমিনুল ইসলাম টিবিএসকে জানান তিনি গত ৮ বছর ধরে গুলশান এলাকায় রিকশা চালান। ৪ আগস্ট গুলশান-২ নম্বর এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর তিনি গদির ফাঁকে (যাত্রী বসার স্থান) মুঠোফোনটি দেখতে পান। দেখে মনে হয়, মুঠোফোনটি বেশ দামি। মুঠোফোনটি বন্ধ অবস্থায় ছিল। চার্জ না থাকায় সেটি চালু করাও যাচ্ছিল না। ফলে মুঠোফোনটির মালিক কে, তা বুঝতে পারছিলেন না।
তিনি বলেন, মুঠোফোনটির মালিককে খুঁজে বের করতে তা চালু করার দরকার ছিল। তাই তিনি তার বাসার এলাকা উত্তর বাড্ডার একটি দোকানে গিয়ে চার্জার কেনার চেষ্টা করেন। কিন্তু দোকানদার চার্জারের দাম অনেক বেশি চান। তাই তিনি চার্জার না কিনে ফিরে আসেন। পরে তিনি মুঠোফোনটির সিম খুলে ফেলেন। নিজের মুঠোফোনে সিমটি চালু করেন। সিম চালু করার পর এক নারীর ফোন আসে। তিনি মুঠোফোনটির মালিকানা দাবি করেন। তখন তিনি ওই নারীকে মুঠোফোনটি নিয়ে যেতে বলেন। পরে তিনি পুলিশের মাধ্যমে মালিকের কাছে মুঠোফোনটি ফিরিয়ে দেন।