না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার (ইসি), কবি ও শিশু সাহিত্যিক মাহবুব তালুকদার। বুধবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
দেশ টিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘আমার বন্ধু সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ২০১৭ সালে নিবার্চন কমিশনে যোগ দেওয়ার পর তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে শহীদদের রক্তের সাথে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না, যে কথা তিনি গত পাঁচ বছরে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এ দেশের মানুষ তাদের পক্ষে এবং স্বাথের্ লড়াই করা একজন অকুতভয় সৈনিককে হারালো। আমরা তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।’

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের ফেসবুক স্ট্যাটাস
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মাহবুব তালুকদার ১৯৪২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায়। তিনি ঢাকা নবাবপুর হাইস্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে তিনি ঢাকা জগন্নাথ কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ও মুজিবনগর সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তাঁকে উপসচিবের পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির স্পেশাল অফিসার নিযুক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি মুহম্মদ উল্লাহর জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর মাহবুব তালুকদার তাঁর সহকারী প্রেস সচিবের (উপসচিব) দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তাঁকে তদানীন্তন ক্যাডার সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা পরে বিসিএস প্রশাসন হিসেবে রূপান্তরিত হয়। একসময়ে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়।
মাহবুব তালুকদার একজন সৃজনশীল লেখক। কবিতা, গল্প, উপন্যস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ৪০। তিনি ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। তাঁর স্ত্রীর নাম নীলুফার বেগম। এ দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।