মিয়ানমারের সামরিক শাসক বাংলাদেশে ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এ কারণে অতীতের চাইতে বেশি ইয়াবা ঢুকছে বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মতে, দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি সরকারের তুলনায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে আড়াই গুণ বেশি ইয়াবা ঢুকছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে আরো বলা হয়, ইয়াবা ঠেকাতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বারবার আলোচনা করলেও বাস্তবে দেখা গেছে, সেখানকার সামরিক সরকার ইয়াবা কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। নাফ নদী ছাড়াও দুর্গম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢুকছে।
বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, কমিটির আগের বৈঠকে ইয়াবা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আগের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি ইয়াবা বাংলাদেশে ঢুকছে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করলেও সেখানকার সামরিক সরকার বরং ইয়াবা কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। নাফ নদী ছাড়াও দুর্গম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা ঢুকছে।
তিনি আরও বলেন, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির অনেক দুর্গম পথ রয়েছে যেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় না। সেখানকার একটি বিওপি থেকে অন্য বিওপিতে যেতে দুদিন সময় লেগে যায়। ইয়াবা কারবারিরা এই সুযোগটিও কাজে লাগাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, ইয়াবা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে এজন্য সবরকম চেষ্টা অব্যাহত আছে। দুর্গম এলাকায় বিওপির সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।
কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইয়াবা আসতে শুরু করেছে। এরপর ধীরে ধীরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেও মাদক ব্যবসা ও সেবন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মো. হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ও রুমানা আলী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।