অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বিরোধিতার পরও জাতীয় নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেছেন, আমাদের নির্বাচন কমিশন যেন দেখতেও পায় না, শুনতেও পায় না। মনে হয় তারা অন্ধ ও কালা। তানাহলে সবার বিরোধিতার পরও তারা কেন, কি উদ্দেশে ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় তা বোধগম্য নয়।
রোববার (২৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের উপযোগিতা’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সুজন সম্পাদক বলেন, ইভিএম একটি দুর্বল যন্ত্র। নির্বাচন কমিশন বলছে, ইভিএমে কারচুপির সুযোগ নেই। এটি নির্ভুল প্রমাণের দায়িত্ব কমিশনের। ইভিএমের নিয়ন্ত্রণ বাইরের কারও হাতে না থাকলেও নির্বাচন কমিশন ও কর্তা ব্যক্তিদের হাতে আছে।
বদিউল আলম বলেন, কথার কথা ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট হলো। একটি দলকে তারা ১৪০ আসন দিয়ে দিল। পেপারে লিখিত না থাকলে এটাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। কুমিল্লায় এভাবেই হয়েছে। যাচাই-বাছাই করার আর কোনো সুযোগ নেই। তারপরও তারা কী উদ্দেশ্যে ইভিএম করছে, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ব্যালটের ১১০ শতাংশ ভোট, নাকি ইভিএমের ৫৩ শতাংশ ভোট, কোনটি ভালো- এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যেন কোনোটাই না হয়, তা নিশ্চিত করা। এটা নিশ্চিত না হলে তাদের ব্যর্থতা। এ দায় তাদের নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাদের স্বাধীন করা হয়েছে যেন তারা এদেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করতে পারে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নতুন ইভিএম কিনতে হলে অর্ধ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। অন্যদিকে আমরা বর্তমানে চরম সঙ্কটে আছি। সঙ্কট নিরসনে সাত মিলিয়ন ডলার ঋণ নিচ্ছি। এমতাবস্থায় এটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমার বোধগম্য নয়।
প্রবন্ধ উপস্থাপনে প্রযুক্তিবিদ ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ইভিএমের অন্য বিষয়গুলো ডিজিটাল হলেও ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়া ডিজিটাল নয়। এটি ম্যানুয়াল হওয়ায় অস্বচ্ছতা ও কারচুপির সুযোগ আছে। কমিশনের ৭০-৭৫ আসনে ইভিএমে নির্বাচন করার সক্ষমতা আছে মাত্র। অর্থনৈতিক এ সংকটে নতুন করে ইভিএম কিনে ডলার খরচ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মন্ডল বলেন, নির্বাচনে কুশীলব হলো রাজনৈতিক দলগুলো। বিশ্বের ১৭৮টি দেশ যারা ইভিএমের পক্ষে। আমার জানা মতে সেসব দেশে স্বৈরশাসক সরকার নেই।