সারাদেশে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল ও আটা বিক্রি কার্যক্রম চলছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ২ হাজার ৩৬৩টি কেন্দ্রে এ বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।
দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ১৫ টাকা কেজি ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে। আর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে ১০ কেজি করে কার্ডধারীরা সাশ্রয়ী মূল্যে চাল কিনতে পারবেন।
ময়মনসিংহ: দুপুরে নগরীর টাউন হল মোড়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার শফিকুর রেজা বিশ্বাস ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক। এ সময় তাদের উপস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি করেন ডিলাররা।
ময়মনসিংহ বিভাগে মোট ৫ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীকে এ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রতিদিন ৪ মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি করা হবে।
রাঙামাটি: রাঙামাটি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর রহমান হোসাইনী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা বিনতে আমিন প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, জেলায় ২৮ জন ডিলারের মাধ্যমে তিনটি ক্যাটাগরিতে দৈনিক ৫৬ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করা হচ্ছে। মাসে এ চালের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন।
সুবিধাভোগী সুরবালা চাকমা ও সজীব চাকমা জানান, ‘বাজারে চালের অনেক দাম। এ সময় সরকার আমাদের ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছে। এতে আমরা অনেক খুশি।’ দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারা।
পিরোজপুর: জেলার ৩টি পৌরসভা ও ৩টি উপজেলায় ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সকালে শংকরপাশা ইউনিয়নের জেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে ন্যায্যমূল্যে এ চাল বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ সাঈদুর রহমান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সৌরেন্দ্র নাথ সাহা, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা শেখ মশিয়ার রহমান।
খাদ্যবান্ধব এ কর্মসূচিতে জেলার তিনটি পৌরসভায় প্রতিদিন ১১ জন ডিলারকে ২২ মেট্রিক টন চাল এবং ৩টি উপজেলায় ৬ জন ডিলারকে ১২ মেট্রিক টন চাল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য দেয়া হবে।
এ কর্মসূচির আওতায় ৮৬ জন ডিলার ৩৫ হাজার ৮০৯ কার্ডধারী পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে ১৫ টাকা কেজিতে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিক্রি করবে। এছাড়াও টিসিবির কার্ডধারীরা প্রতি ১৫ দিনে ৫ কেজি করে মাসে ১০ কেজি চাল কিনতে পারবেন।
পটুয়াখালী: সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা শহরের কোর্টপাড়ার ডিলার পয়েন্টে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাজেদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত হোসেনসহ উপকারভোগীরা।
৩০ টাকা কেজি দরে মাথাপিছু ৫ কেজি করে চাল সপ্তাহে ৫ দিন বিতরণ করা হবে। জেলার ৩২ ডিলার পয়েন্টে প্রতি সপ্তাহে ৫৬ মেট্রিক টন ওএমএসের চাল বিতরণ করা হবে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর তিন মাস এ কর্মসূচি চলবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত হোসেন জানান, ওএমএসের এ কর্মসূচি ছাড়াও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে মাথাপিছু ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪০ জন হতদরিদ্র এ সুবিধার আওতায় এসেছেন।
নরসিংদী: সকালে জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান পৌর শহরের শিক্ষাচত্বর এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন বাচ্চু এবং জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কার্যক্রমের আওতায় নরসিংদী জেলায় ৪৯ জন ডিলারের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে এবং ১৫ জন ডিলারের মাধ্যমে ১৮ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি মাসে ৫ কেজি করে দুবার ওএমএসের চাল কেনা যাবে। ওএমএস কার্যক্রমে প্রতি ডিলার দিনে ২ টন চাল বরাদ্দ পাচ্ছেন, আটা পাচ্ছেন ৫০০ কেজি। ওএমএসের আওতায় ই জেলার ৬২ হাজার ৯৫৮ জন নিম্ন আয়ের মানুষ চাল ও আটা কেনার সুবিধা পাচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বেলা ১১টার দিকে খাদ্যশস্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমামুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোজাম্মেল রেজা, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন ও শামিমা মুজিব।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা জানান, জেলায় মোট ৫২ জন ডিলার রয়েছেন। তারা প্রত্যেকে প্রতিদিন ২ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করতে পারবেন। প্রতিদিন উপকারভোগীরা ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ক্রয় করতে পারবেন। জেলায় মোট ১২ হাজার পরিবারের মাঝে প্রতিদিন এ চাল বিতরণ করা হবে। এতে অসচ্ছল পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরে আসবে।
নোয়াখালী: সকালে নোয়াখালী পৌরসভার দত্তের হাট এলাকায় জেলা সদর ও পৌরসভার নিম্ন আয়ের মানুষ ও টিসিবি কার্ডধারীদের মাঝে ওএমএসের চাল বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম মামুনুর রশিদ।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নোয়াখালী পৌরসভার মেয়ের মো. সহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির।
জেলায় ৪২টি কেন্দ্রে প্রতিদিন ২ মেট্রিক টন ৮৪ মেট্রিক টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর মাধ্যমে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১৯৯ জন ডিলারের মাধ্যমে ৮২ হাজার ৫৫১ জন সুবিধাভোগী ১৫ টাকা দরে ৩০ কেজি করে আগামী তিন মাস চাল পাবেন।
যশোর: সকাল ৯টায় শহরের রেল রোডে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান।
ওএমএস ডিলারদের মাধ্যমে যশোর পৌরসভার ১৪টি স্থানে প্রতিদিন ২২ মেট্রিকটন, মণিরামপুর, কেশবপুর, নওয়াপাড়া, বেনাপোল, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া ও চৌগাছা পৌরসভার ২৬টি স্থানে প্রতিদিন ৫০ মেট্রিকটন এবং শার্শা উপজেলার দুটি স্থানে চার মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি করা হবে।
এর পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৫৫ জন কার্ডধারী নির্ধারিত ডিলারদের কাছ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পারবেন। একজন কার্ডধারী মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল পাবেন।
পঞ্চগড়: সকালে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়াম এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার এস এম সিরাজুল হুদা।
এ সময় পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুল হক, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা রেজাউল হক উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত ৫১ হাজার তিনজন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল সরাসরি ডিলারদের কাছ থেকে কিনতে পারবেন।
এছাড়া আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে চতুর্থ ধাপে জেলার নিবন্ধিত ৬৯ হাজার ৭৫ জন নিম্ন আয়ের মানুষকে ৫৫ টাকা কেজি দরে এক কেজি চিনি, ১১০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সোয়াবিন তেল ও ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল দেয়া হবে।
বাগেরহাট: সকালে বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ এলাকায় স্বল্পমূল্যে চাল বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। এ সময় বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম তাহসিনুল হক, চাল ব্যবসায়ী সরদার আবু সাইদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কর্মসূচির আওতায় জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৩৪ পয়েন্টে ৩০ টাকা কেজি দরে দৈনিক ৫০ টন চাল বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা খাদ্য অধিদফতর। জেলায় টিসিবির কার্ডধারী ৮১ হাজার পরিবার মাসে দুইবার ৫ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন।
ফরিদপুর: সকালে শহরের টেপা খোলায় এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তা কাজী সাইফুদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় ১০০ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি করা হবে।
ঝালকাঠি: সকাল সাড়ে ৯টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু।
এ সময় তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৩০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শেখ হাসিনার যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।’
জেলায় ১২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৪ টন চাল বিক্রি করা হবে। জেলা সদরের ৪ হাজার ৮০০ জন দৈনিক এ সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে জেলার চারটি উপজেলার ৩২ হাজার ১৪০ পরিবারকে প্রতিমাসে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হবে।