জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ২৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু মুনশি (এমপি)।
২৯ সদস্য বিশিষ্ট পরিষদের সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব তপন কান্তি ঘোষ, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বীমা ব্যক্তিত্ব জনাব শেখ কবির হোসেন, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি জসিম উদ্দিন, কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক ড. নজরুল আনোয়ার, সাবেক সচিব মো. আবদুল মালেক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফেরদৌস আহমেদ, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মিসেস মনোয়ারা হাকিম আলী, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মিসেস প্রীতি চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভাটি সঞ্চালনা করেন পরিষদের সচিব ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানানোসহ ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, বাজারজাতকরণ ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিরলস কাজ করার জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান এবং কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী অধিদপ্তরের গৃহীত কার্যক্রমের প্রতিবেদন পরিষদের অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়াও অধিদপ্তরের ২০২১-২০২২ অর্থবছরের কার্যাবলীর বিবরণ সম্বলিত বার্ষিক প্রতিবেদন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত ৪টি ত্রৈমাসিক হিসাব বিবরণী এবং ক্যাব কর্তৃক ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের 'ভোক্তা অধিকার শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম' বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অধিকতর প্রচারের লক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব (Vokta Odhikar-DNCRP) চ্যানেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম প্রচার এবং অধিদপ্তরের জনবল বৃদ্ধির বিষয় অনুমোদনের জন্য সভায় উপস্থাপন করা হয়।
সভায় জানানো হয় যে, অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২৭ আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত সময়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বাজার তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে এক লক্ষ ৩৩ হাজার ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে দণ্ডিত করে ৯২,৭৫,৭৫,৩৪২ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একই সময়ে দাপ্তরিকভাবে প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ৭৮০৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৫,৫০,৮৪,২০৮ টাকা জরিমানা করা হয়। সভায় আরো জানানো হয় যে, দাপ্তরিকভাবে নিষ্পত্তিকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদায়কৃত জরিমানার ২৫%হিসেবে ৭৬৯৩ জন অভিযোগকারীকে ১,৩৫,২৫,৮০২ টাকা প্রদান করা হয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পরিচালিত কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। এছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ নিয়মিত বাজার তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাসহ ভোক্তা ও ব্যবসায়ী বান্ধব বাজার ব্যবস্থা গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত সদস্যরা ভোক্তা-অধিকার বিষয়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার, মিডিয়া কর্মীদের অংশগ্রহণে কর্মশালা আয়োজন এবং ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনদের অংশগ্রহণে গণশুনানী আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সভায় শিশু খাদ্য, বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, নকল, ভেজাল ঔষধ পণ্যসহ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ কঠোর শাস্তি প্রয়োগের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব তপন কান্তি ঘোষ কমিটির সদস্যদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য দপ্তর সংস্থাকে সমন্বয় করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।