জাতীয়

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে সব ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে: প্রধানমন্ত্রী

 ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা শান্তি ও জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশ ও নিরাপত্তাসহ সব ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরত না পাঠাতে পারলে বাংলাদেশ অনিরাপদ হয়ে ওঠবে।

সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) চার দিনব্যাপী ৪৬তম ইন্দো প্যাসিফিক আর্মিস ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস) ২০২২ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই সেমিনারের উদ্বোধন করেন।

রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে শুরু হয়েছে এই সেমিনার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের যৌথ আয়োজনে সেমিনারের এবারের থিম হলো ‘ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। তাই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। মিয়ানমারকে অনুরোধ করছি তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে।

এ সময় তিনি বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরীতা নয়’ এই নীতিতে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ।

বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। বাংলাদেশ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই কাজ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা বিশ্বের প্রায় সব দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা দেশগুলোকে টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক ও সামরিক কূটনৈতিক চ্যানেলে পারস্পরিক যোগাযোগ, সংলাপ ও বৈঠক পথটিকে আরও প্রশস্ত করেছে।’

আইপিএএমএসকে বহুজাতিক প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়ে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বন্ধুত্ব, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইপিএএমএস সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি মনে করি, এই ফোরাম বাস্তবসম্মত উপায়ে বহুপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।’

একটি দেশের সেনাবাহিনীকে ওই দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রধান হাতিয়ার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শান্তি সহায়তা কার্যক্রমে অবদানের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। জাতিসংঘ মিশনে কিংবা বিশ্বের যেকোনো স্থানে দেশ ও বিশ্বশান্তির জন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা যে, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জাতিসংঘের অধীনে বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা এটি অব্যাহত রাখতে চাই।’

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথাও উঠে আসে শেখ হাসিনার বক্তব্যে। তিনি বলেন, “বিশেষ করে দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার মতো অর্জনগুলো বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ নামে পরিচিত করেছে। আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, কারণ আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং আমরা আমাদের জনগণের সম্মিলিত শক্তির ওপর নির্ভর করি।’

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

দেশটিভি/এসএফএইচ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ