আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের একটি কর্মীও যদি আমাকে না চায় তাহলে আমি নেতৃত্বে থাকব না, চলে যাব।
বৃহস্পতিবার ( ৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন সরকারপ্রধান।
শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তার সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সাংবাদিক জানতে চান, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। সেই কাউন্সিলে তিনি থাকবেন কি না, নেতৃত্বে কোনো চমক থাকছে কি না?
জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের একটি কর্মীও যদি আমাকে না চায় তাহলে আমি থাকব না। চলে যাব। একজন কাউন্সিলর চাইলেই পদ ছেড়ে দেব। আমি দলীয় পদ থেকে বিদায় নিতে প্রস্তুত। আমিও চাই আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব আসুক।
মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে আসছে। মানবিক কারণে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে তাদের নিজ দেশে ফিরতে পারে সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।
এবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার জন্য জাতিসংঘকে কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন বিরোধ নিরসনের আহ্বান জানানোর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অধিক পারস্পরিক সংহতি প্রদর্শন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করি। এসব সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা-নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট ও বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। চলমান সঙ্কট নিরসনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শান্তি ও উন্নয়ন ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরি।
র্যাব সৃষ্টি করেছে কে- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমেরিকা র্যাবের ট্রেনিং দেয়, তারাই অস্ত্র দেয়। যেমন ট্রেনিং দিয়েছে তারা (র্যাব) তেমন করেছে। আমাদের করার কী আছে?
তিনি বলেন, যাদের দিয়ে সন্ত্রাস দমন করেছি তাদের ওপরই কেন স্যাংশন? স্যাংশন দিয়ে কার ক্ষতি হচ্ছে? সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। কথায় কথায় স্যাংশন- এটা কেমন কথা?
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
আমেরিকা নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে না বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ৪০ বছর তালেবানের সাথে যুদ্ধ করে আবার তাদের কাছেই ক্ষমতা দিয়ে চলে গেল আমেরিকা। নিজের ব্যর্থতার কথা তারা বলে না। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হয় আমাদের দেশে। কিন্তু আমেরিকায় বিচার হয় না।
মুক্তিযুদ্ধের যারা বিরোধিতা করেছে তারা স্বাধীনতার পর অনেকদিন ক্ষমতায় ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার দেশেরই কিছু লোক তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছে বানোয়াট তথ্য দেয়। দেশের বদনাম করে। যারা এটা করে তারা কোনো না কোনো অপরাধ করে দেশ ছেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়- আমরা এই নীতিতে চলতে চাই।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী গত ৩ অক্টোবর (সোমবার) রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে দেশে ফেরেন। এর আগে যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে ১৫ সেপ্টেম্বর লন্ডন যান। সেখানে তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও রাজা তৃতীয় চার্লস কর্তৃক আয়োজিত অভ্যর্থনায় যোগ দেন। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।