আগমী সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার (১০ অক্টোবর) এক অুনষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে দুর্নীতির মামলায় যদি দুই বছর বা তার অধিক সাজা হয় তাহলে এমপি নির্বাচন করতে পারবেন না। তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, আমার মনে হয়, বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল অনেক দেশীয় আইন মানেন না। তাদের পক্ষে এই রকম কথা বলাটা যে খুব একটা সারপ্রাইজিং তা না। আমার কথা হচ্ছে, দেশে যে আইন আছে সে আইনে যদি তিনি যোগ্য হন তাহলে নির্বাচন করবেন। আর তিনি যদি অযোগ্য হন তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।
খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন আরেক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে যা বলে তাই হবে। আমার কথার সারমর্ম হচ্ছে এই, আইনে যদি বলে তিনি করতে পারবেন, তাহলে তিনি করতে পারবেন। কিন্তু আইনে যদি বলে তিনি করতে পারবেন না, তাহলে তিনি করতে পারবেন না। আপতত যে আইন আছে তাতে মনে হয় না যে তিনি করতে পারবেন।
দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি ছিলেন। এরমধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের আবেদনে সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। এরপর খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের নিজের বাসভবন ফিরোজায় যান। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের মেয়াদ আরও কয়েকদফা বাড়ানো হয়েছে।
সবশেষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রতিবার একই শর্তে তাকে কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, মুক্ত থাকার সময়ে খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে পারবেন না।