বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার সত্ত্বেও একে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সেবা তেমনভাবে বাড়েনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা—দেশের ১৩ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও এখনও ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ডিজিটাল খাত নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তৈরি বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ বলছেন, সবক্ষেত্রে ডিজিটালকরণের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ, আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে।
এ সময়ে ৭ লাখ আইসিটি জনবল তৈরি করা হবে এবং জিডিপি তে আইসিটির অবদান থাকবে ৫%।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষ এখনও ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামাজিক ও অর্থনীতিক অসাম্যই এর কারণ। তাছাড়া সবক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও কল্যাণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তথ্য প্রযুক্তির উদ্ভব হলেও তা অধরাই রয়ে গেছে।
এ বাস্তবতা বাংলাদেশেও—দেশে তথ্য প্রযুক্তির প্রসার হলেও ইন্টারনেটভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার খুবই নগন্য।
বিশ্বব্যাংকের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইসিটি খাতের অবদান মাত্র .৫%।
এ সব তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর এমন বাস্তবতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই বাস্তবতা স্বীকার করে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী, ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানান।
আলোচনার পর ডিজিটাল খাতে বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদনের মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।