বকেয়ার পরিশোধ করতে না পারায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। বেসরকারি এ মোবাইল কোম্পানির কাছে বিটিআরসির মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিল প্রক্রিয়ার এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান। এ কারণে গ্রাহকদের বিকল্প সেবা নিতে সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছে।
পাওনা টাকা আদায়ে বার বার তাগাদা দিয়েও তা না পেয়ে অবশেষে দেশের প্রথম বেসরকারি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।
বিটিআরসির সঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কাছে মোট বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ।
যার মধ্যে: টুজি লাইসেন্সের তরঙ্গ বরাদ্দ ও নবায়ন ফি - ২২৯ কোটি টাকা, রাজস্ব বাবদ ২৭ কোটি ৪৪লাখ টাকা, বার্ষিক তরঙ্গ ফি - ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, সামাজিক সুরক্ষা তহবিল ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বার্ষিক লাইসেন্স ফি - ১০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর ৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা ও বিলম্ব ফি - ১৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা।
এ সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের বিকল্প সেবা নেয়ার জন্য আরো ৭ দিন সময় বাড়ানোর কথাও জানান তারানা হালিম। সিটিসেল বন্ধের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বুধবার সরকারে কাছে সংশ্লিষ্ট ফাইল পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
১৯৮৯ সালে দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর হিসেবে টেলিযোগাযোগ সেবা দেয়ার লাইসেন্স পায় সিটিসেল। যাত্রার সময় এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মুঠোফোন অপারেটর। শুরুর দিকে সংযোগসহ সিটিসেলের একটি ফোনের দাম রাখা হতো লাখ টাকার বেশি।
বর্তমানে সিটি সেলের ৫৫% শেয়ারের মালিক দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী প্যাসিফিক মোটরস ও ফার -ইস্ট টেলিকম।