বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের ফলে বাংলাদেশ ভাড়া করা উপহের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এ স্যাটেলাইট বিশেষ কাজে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ই-সেবার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও লাভবান হবে দেশ, শক্তিশালী হবে অর্থনৈতিক ভিত।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে অবস্মরণীয় এক অর্জন হলো বাংলাদেশের। অর্থনীতির অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতেও এগিয়ে গেলো দেশ। নিজস্ব এ স্যাটেলাইট দেশে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ভূমিকা রাখবে।
ডিরেক্ট টু হোম-ডিটিএইচ পদ্ধতিতে স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলেও সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার করা সম্ভব হবে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে।
এ উপগ্রহের মাধ্যমে ব্রডকাস্টিং, টেলিকমিউনিকেশন ও ডাটা কমিউনিকেশনের সেবা দেয়া যাবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের বিদ্যমান টেরেস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে।
বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কাজাখস্তানের কিছু অংশ এ স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে। ফলে এসব এসব দেশের কাছে এ উপগ্রহের সেবা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে।
আর বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে নেপাল, মিয়ানমার এবং ভুটানের কাছে স্যাটেলাই সেবা দিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার ও ১৪টি সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার রয়েছে।
মহাকাশে স্যাটেলাইটের কার্যকারিতার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল থাকে। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মিশনের মেয়াদকাল হবে ১৫ বছর।