প্রযুক্তি বিষয়ক অনলাইন পত্রিকা বিজনেস ইনসাইডারে রিপোর্টে সামনে উঠে এল ফেসবুক কিভাবে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর সাথে ব্যবহারকারীর তথ্য বিনিময় চুক্তি করেছে। চীনভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের সঙ্গে গ্রাহক তথ্য বিনিময় বিষয়ে চুক্তি রয়েছে ফেসবুকের।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে হুয়াওয়ের নেটওয়ার্কিং যন্ত্রাংশ ও মোবাইল ফোন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, চীন সরকারের সঙ্গে হুয়াওয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির সরঞ্জাম বা ডিভাইস ব্যবহার করলে মার্কিনিদের ওপর গোয়েন্দাগিরির সুযোগ পাবে চীন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির যন্ত্রাংশ বা ডিভাইস ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সম্প্রতি সামরিক ছাউনিতে হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পেন্টাগন। এর আগে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্যবহার না করতে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানান দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ফেসবুকের সঙ্গে অন্তত ৬০টি ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিনিময় চুক্তি রয়েছে। ১০ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেসবুক তথ্য বিনিময় চুক্তিতে আবদ্ধ আছে। ফলে সম্মতি ছাড়াই ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানিগুলো ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যের সঙ্গে তাদের বন্ধুদের তথ্যও পাচ্ছে। আর এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে— রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস, ধর্ম ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা। অধিকাংশ চুক্তি এখনো বলবৎ আছে। হুয়াওয়ে বাদে আরো তিনটি চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি, লেনোভো, অপো ও টিসিএল’র সঙ্গে ফেসবুকের তথ্য বিনিময় চুক্তি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চীনা কোম্পানি ছাড়াও অ্যামাজন, অ্যাপল, ব্ল্যাকবেরি, এইচটিসি, মাইক্রোসফট ও স্যামসাংয়ের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ফেসবুকের।
২০১২ সালে মার্কিন হাউজ ইন্টেলিজেন্স কমিটি চীনা কোম্পানির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। হুয়াওয়ে ও জেডটিই করপোরেশনের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি না করতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়।
ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তদন্তের মুখে পড়েছে। এ ঘটনার জেরে মার্ক জাকারবার্গকে মার্কিন সিনেট ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের শুনানিতে অংশ নিতে হয়েছিল। উভয় শুনানিতে তিনি নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।