সোমবার রাত থেকেই বিশ্বজুড়ে স্তব্ধ হয়ে যায় ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রামের মতন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। এই মুহূর্তে টুইটারই একমাত্র বড় সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম যারা এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় রয়েছে। হঠাৎ করে গোটা বিশ্বে ভার্চুয়াল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রহস্যের গন্ধ পান অনেকে।
এদিকে ইন্টারনেট শাটডাউন বিষয়টিকে নিয়ে টুইট করেন বিখ্যাত মার্কিন গোয়েন্দা কর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন। তিনি বলেন, “ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইস্টাগ্রাম একই সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় মানুষকে। এই সংস্থাগুলোকে এক চেটিয়া মালিকানাধীনের বাইরে তিনটি পৃথক সংস্থা করে দিলেই এই সমস্যা হতো না।”
অন্য একটি টুইটে তিনি প্রশ্ন করেন, “আজ যেভাবে সমস্ত ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেল, আর যদি কখনোই না ফিরে আসে, তাহলে আগামীকাল কি হবে?” এখানে থেকে মতামত সুযোগ দিয়েছেন নেটিজেনদের। বহু নেটিজেনই স্নোডেনের প্রশ্নে রিটুইট করে প্রতুত্তর দেন। এই পরিস্থিতিতে এই মার্কিন গুপ্তচরের টুইটের ইঙ্গিতে রহস্যের আভাস রয়েছে বলে দাবি নেটিজেনদের। যদিও মার্কিন প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।
২০১৩ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর বিরুদ্ধে গোপনে নজরদারি চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন স্নোডেন। মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের অনধিকার প্রবেশ ও নজরদারি সামনে আসতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মার্কিনিরা। শুধু দেশেই নয় অধিকাংশ মিত্র রাষ্ট্রনেতাদের টেলিফোনে আমেরিকা নজরদারি চালায় বলে সরব হয়েছিলেন এই মার্কিন গোয়েন্দা।
জার্মান, ব্রাজিল সহ একাধিক মিত্রদেশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটনকে। স্নোডেনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হলে তিনি আমেরিকা ত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘদিন রাশিয়ায় আশ্রয় নেন।