মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর আপিলের রায় বুধবার।
এর আগে ১৬ এপ্রিল সাঈদীর আপিলের শুনানি শেষ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ রায় যে কোনো সময় (সিভিএ) বলে আদেশ দেয়।
ও্ইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি আশা করি ন্যায় বিচার পাব। তার বিরুদ্ধে যে ৮টি যে অভিযোগ রয়েছে আমার বিশ্বাস সবকটি প্রমাণ করতে পেরেছি।’
আর সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে সাঈদী সাহেবকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। দেলওয়ার সিকদারের জায়গায় দেলওয়ার সাঈদী করা হয়েছে।’
এর আগে ১৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার) উভয়পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে পিরোজপুরে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগে স্বাধীনতার পর দায়ের হওয়া মামলায় দালাল আইনে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নথি তলবে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে একই মামলার বিচারিক আদালতের রেজিস্ট্রার খাতা তলবের আবেদন জানায় আসামিপক্ষ।
বুধবার আপিল বিভাগ ওই দুটি আবেদনই খারিজ করে সাঈদীর আপিল আবেদন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় দুটি হত্যার দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়।
সাঈদীরে বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিশাবালী হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে আসামিপক্ষের দাবি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা মামলার আসামিই ছিল না সাঈদী।
ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পিরোজপুরে একটি মামলাও করেছিলেন। ওই মামলায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় সাঈদীর নাম নেই বলে দাবি করে আসামিপক্ষ।
মমতাজ বেগমের করা ওই মামলার এফআইআর নথির একটি সত্যায়িত কপি ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়।