টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় গুলিতে ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী এ রিট আবেদন করেন।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জাফর আহমেদের অবকাশকালীন বেঞ্চ এ বিষয়ে আংশিক শুনানি করে ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ঠিক করে দিয়েছে।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন সমিতির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
একই বিষয়ে আদালতের কাছে রুলও চাওয়া হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।
রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহা পরিদর্শক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি (শৃঙ্খলা), টাঙ্গাইলের ডিসি, এসপি ও কালিহাতীর ওসিকে বিবাদী করা হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার কালিহাতী ও ঘাটাইল থানার সাত জন পুলিশকে প্রত্যাহার করে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।
পুলিশের গুলিতে আহত আরো একজন গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার নাম মো. রুবেল হোসেন (২০)। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪ জনে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জন নিহত ও আহত হন কমপক্ষে ৫০ জন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ বাদশাহ ও রুবেল নামে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। মুখে গুলিবিদ্ধ বাদশাহ চিকিৎসাধীন আছেন।
গত শুক্রবার বিকেলে কালিহাতীতে মা ও ছেলেকে নির্যাতনের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ।
প্রসঙ্গত: মঙ্গলবার কালিহাতীর সাতুটিয়া গ্রামে এক তরুণ ও তার মাকে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ওরফে রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ওই দিন বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।