আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আসামি বাগেরহাটের খান মোহাম্মাদ আকরাম হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। আকরাম হোসেন রাজশাহী পবা উপজেলার ভুগরইলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
আকরাম হোসেন খান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি গ্রামের প্রয়াত জয়নাল আবেদিন খানের ছেলে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার সকালে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মোহাম্মদ এরফান জানান, গত ১০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল আকরাম হোসেন খানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ রাজশাহী আসে। নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের সহায়তায় ওই রাতে রাজশাহীর অন্তত ৬টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তার এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আকরাম হোসেনকে আটক করে।
এর আগে গত ১১ জুন একই অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সোলারকোলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল লতিফ তালুকদারকে (৬৫) একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
আকরাম হোসেন খানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি বাজারে একসঙ্গে ৪২ জনকে হত্যা, বাজার লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। ইতিহাসে ঘটনাটি শাঁখারীকাঠি গণহত্যা নামে পরিচিত। বর্তমান সরকারের সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ২০০৯ সালে নিমাই চন্দ্র দাস নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজাকার আকরাম হোসেন খান ও আবদুল লতিফ তালুকদারসহ ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাটের আদালতে মামলা করেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাগেরহাট জেলায় মোট ৬৩টি মামলা হয়েছিলো। মামলাগুলো তদন্ত করে রামপাল উপজেলার ডাকরা গণহত্যা, কচুয়া উপজেলার শাঁখারীকাঠি গণহত্যাসহ কিছু মামলা আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। নিমাই চন্দ্র দাসের মামলাটি (শাঁখারীকাঠি গণহত্যা মামলা) গত বছরের ২১ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে পাঠালে আদালত মামলাটি আমলে নেন। গত ১০ জুন আকরাম হোসেন খান ও আবদুল লতিফ তালুকদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।