অপরাধ

বাবার খুনিরাই আমাকে অপহরণ করে: পারভীন

পারভীন
পারভীন

আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়া জমি-জমা নিয়ে বিরোধে ২০১১ সালে খুন হন। সেই খুনের আসামিরাই আমাকে অপরহরণ করে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে সাংবাদিকদের জানান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নারী কাউন্সিলর পারভীন আক্তার।

রোববার দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

অপহরণের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে এসময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

পারভীন আক্তার জানান, চিহ্নিত ভূমিদস্যু দুলাল হাজী ও তার লোকেরা প্রতারণা করে মানুষের জমি দখল করে। বাবা চাঁন মিয়া এতে বাঁধা দিলে তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এরপর থেকে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন জানান, কাউন্সিলর পারভীন আক্তারকে গত শনিবার রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার আউসপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে রাতেই তাকে গাজীপুরে আনা হয়। রোববার সকালে তাকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হাজির করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন,সঞ্জিত কুমার রায়,গোলাম আজাদ খান,জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান ও গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন ও পরিদর্শক আলম চাঁদ।

পারভীন আক্তার আরো জানান,গত বৃহস্পতিবার রাতে এক নারী ফোন করে জানান, তার দাম্পত্য কলহ নিরসনে সহযোগিতা দরকার। এজন্য তাকে জিরানী বাজার এলাকায় রহিম আফরোজ ব্যাটারি কারখানার পাশে যেতে হবে। পর দিন শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে তিনি সেখানে যান। যাওয়ার পর ওই নারী জানান, তার কাছে কিছু স্বর্ণালংকার আছে,১০-১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই স্বর্ণালংকার হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, 'পরে আমরা জিরানী বাজারে যাই। সেখান থেকে একটি মাইক্রোতে উঠতে গিয়ে দেখতে পাই গাড়ির ভিতরে তার বাবার খুনের মামলার আসামি দুলাল হাজী,জুয়েল ও সোহেলসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জন। তাদের দেখে আমি ফিরে যেতে চাইলে আমাকে ঝাপটে ধরে গাড়ি তুলে নিয়ে তারা সাভারের দিকে চলে যায়। এই সময় দুলাল হাজীসহ অন্যরা আমার নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।' পারভীন আক্তার আরো জানান, শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে জ্ঞান ফিরে এবং দেখেন তিনি একটি ঘরে বন্দি। ওই নারীসহ ৩ জন তাকে পাহাড়া দিচ্ছে। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করে বাবা হত্যার মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

তিনি বলেন, 'এতে আমি কোনো সাড়া না দিলে তারা আমাকে একইভাবে অচেতন করে মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকা-সিলেট সড়কের দিকে রওনা দেয়। পথে জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই একটি পুলিশ চেকপোস্ট দেখে তারা গাড়ির গতি পরিবর্তন করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। পরে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা আমাকে হাত পা বেঁধে ঢাকা-হবিগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।'

পারভীন জানান, এক অটোরিকশা চালকের সহায়তায় তিনি স্থানীয় একটি বাজারে পৌঁছান। সেখান থেকে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে স্বামী মিনহাজ উদ্দিনের সাথে কথা বলেন। পরে মিনহাজ পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

পারভীন আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,'উদ্ধার হলেও বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমাকে যে কোনো মুহূর্তে ওরা মেরে ফেলতে পারে।'

তিনি আরো বলেন,'জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১১ সালে দুলাল হাজী,জুয়েল ও সোহেলরা বাবাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। আমি সেই মামলার বাদি। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তারা আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। হুমকির বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় একাধিক জিডি রয়েছে ।'

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলম চাঁদ জানান,সংবাদ সম্মেলন শেষে পারভীন আক্তার গাজীপুর আদালতে জবান বন্দি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে রোববার মিনহাজ উদ্দিন জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

দেশটিভি/এমএ
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ