বিএনপি- জামাত সরকারের আমলে ২১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারি ও বন্ধু মিয়া নুরউদ্দিন অপুর দেশে ফেরা ও আদালতে আত্মসমর্পনের ঘটনা রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বিদেশে পলাতক থাকার পর তার দেশে ফেরার ব্যাপারটি পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, এমনকি অপুর নিজস্ব আইনজীবীরাও জানতেন না। কোনো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু ও তার একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন অপু গত ১৭ জুন দেশে ফেরেন।
দুদকের করা ২১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের মামলা অভিযুক্ত অপু বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র হাওয়া ভবনের খুবই প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন।
গত ১২ জুন তারেক রহমান লন্ডন থেকে মালেয়শিয়া যাওয়ার পর অপু তাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনাও জানান। সেখানে তাদের মধ্যে বৈঠক হয় বলেও পত্রিকান্তরে প্রকাশ পায়। তারেক লন্ডন ফিরে যাওয়ার পরপরই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে অপু দেশে ফেরেন। ১৮ জুন ভিন্ন একটি চাঁদাবাজির মামলায় ঢাকা মহানগর ২ নম্বর দ্রুত বিচার আদালতে আত্মসমর্পনের আগ পর্যন্ত পুলিশ, দুদক এমনকি অপুর আইনজীবীরাও এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না।
ধারনা করা হচ্ছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলাগুলোর গতি-প্রকৃতি তদারকির জন্যই অপু পরিকল্পিতভাবে দেশে ফিরেছেন। ২০০৭ সালের অক্টোবরে দুদকের একটি হত্যা মামলার আসামিকে বাঁচিয়ে দেয়ার জন্য ২১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র
প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তারেক রহমান ও নুরুদ্দিন অপুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ২০০৮ সালের ১৪ মে ওই মামলায় অবিযোগ গঠন করা হয়।
গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক অপুর আদালত আত্মসমর্পনের ঘটনায় পুলিশ বিভাগের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন ও আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
তবে দুদক মনে করছে, মামলার প্রক্রিয়াগত কিছু জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে অপুসহ মামলার অন্যান্য আসামিদেরও বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।