অপরাধ

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ছক কাটে গোলাম আযম

গোলাম আযম
গোলাম আযম

একাত্তরের ২৫ মার্চ হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পরপরই দেশব্যাপী নৃশংসতায় সমর্থন সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ রুদ্ধ করার নীলনকশায় সক্রিয় ওইসময়ের জামাতের আমির গোলাম আযম স্বরূপে আবির্ভূত হন।

পাকিস্তান বাঁচানোর শ্লোগানে ‘শান্তিকমিটি’ গঠনের নামে তাতে জড়ো করেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের। হয়ে ওঠেন স্বাধীনতাবিরোধী এদেশীয় শক্তির রাজাকার শিরোমনি।

গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, ধর্মান্তর, লুট ও অগ্নিসংযোগের মতো যুদ্ধাপরাধে রাজাকার-আলবদর বাহিনীকে মদদ ও নির্দেশ দেয়ার ভূমিকাটি তিনিই পালন করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় তাই বলা হয়েছে।

২৫ মার্চ ১৯৭১ :

অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। মধ্যরাতে ঢাকাসহ সারাদেশে শুরু হয়ে যায় উন্মত্ত গণহত্যা চলে পাশবিক হত্যাযজ্ঞ। যা অব্যাহত থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস।

মুক্তিকামী মানুষের ওপর পাকিস্তানিদের এ পরিকল্পিত বর্বরতা কীভাবে সম্ভব হয়েছিল কারাই বা তখন হানাদারদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল? ঘটনাটি পরিষ্কার হয়ে যায় দিন চারেকের মাথায়। দেখা যায় এ ভূখণ্ডেরই ধর্মাশ্রয়ী কিছু দলের নেতা বৈঠক করছেন তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্নর টিক্কা খানের সঙ্গে। সেখানে আছেন জামাতের আমির গোলাম আযমসহ মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের প্রধানরা।

নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাদের সশস্ত্র অভিযানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন তারা। দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা টিক্কা খানকে পরামর্শ দেন হানাদার বাহিনীর সহায়তায় কমিটি গঠনের। খাজা খয়েরুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় ১৪০ সদস্যের তথাকথিত শান্তি কমিটি। দেখভালের দায়িত্ব নেন গোলাম আযমসহ ৬ জন।

পরে পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী শক্তি হিসেবে গোলাম আযমের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে বানানো হয় রাজাকার, আলবদর, আলশামস্, মুজাহিদ ও পাইওনিয়ার ফোর্স। নাম লেখায় জামাত আর ইসলামি ছাত্র সংঘের নেতাকর্মীরা। এদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির ও কুচকাওয়াজ নিয়মিত পরিদর্শন করতেন গোলাম আযম।

এ সময় গোলাম আযম বলতেন, পাকিস্তান হচ্ছে ‘আল্লাহর ঘর’ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী ভারতের দালালরা আল্লাহর ঘরকে ভাঙতে চায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে গোলাম আযমের এ বক্তব্য ওইসময় জামাতেরই দৈনিক সংগ্রামে বার বার শিরোনাম হয়েছে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৫ ধরনের অপরাধের এমন ৬১টি ঘটনার অভিযোগে বিচার চলে।

এরকম একটি ঘটনায় একাত্তরের ২১ নভেম্বর ব্রাক্ষণবাড়িয়ার তিতাসপাড়ে পৈরতলা রেলব্রিজের ওপর জেলখানা থেকে বের করে আনা ৩৮ জনকে ব্রাশফায়ার করে হত্যার ঘটনায়ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে। আর একটি চিঠির মাধ্যমেই সেই হত্যায় নির্দেশ দেন গোলাম আযম।

আর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র তখন পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডেরও ছক কাটেন তিনি।

কিন্তু বাংলাদেশের আবির্ভাবকে ঠেকানো যায়নি একাত্তরেই লন্ডনে পালিয়ে বাঁচার উপায় খোঁজেন গোলাম আযম। ৭ বছর পর জেনারেল জিয়ার শাসনামলে দেশে ফেরেন পাকিস্তানি পাসপোর্টে।

২০০০ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব দেন জামাতকে। একপর্যায়ে উচ্চ আদালতে নাগরিকত্ব ফয়সালা হলেও প্রকাশ্য হতেই জনতার আক্রোশের মুখোমুখি হন তিনি। গণআদালতেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডতূল্য বলে ঘোষিত হয়েছিল। এবার আর প্রতীকী নয় আইন দ্বারা গঠিত ট্রাইব্যুনালেই হতে যাচ্ছে এ মামলার রায়।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ