পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ায় দেশি-বিদেশি সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান এ কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, বিশ্বব্যাংক আশ্বাস দিলেও এ মামলায় কোনো সহযোগিতা করেনি।
বদিউজ্জামান বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। প্রতিবেদনে দুর্নীতি বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ না পাওয়ায় সব আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আদালতে চার্জশিট পেশ করা সম্ভব নয় তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি পাঠানো হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমরা কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি। যে অভিযোগে মামলা করেছিলাম দীর্ঘ তদন্তে সেই অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্বব্যাংক ওই সময় যে প্রতিবেদন দিয়েছিল সেটার ওপর ভিত্তি করে আমরা মামলাটি করেছিলাম। মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো কাগজপত্র কানাডার আদালতেও পাওয়া যায়নি। এ মামলার মধ্যে কিছুই নেই। কিছু থাকলে মামলাটিকে এগিয়ে নেওয়া যেত। ফলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।’
এ সময় দুদক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, আলোচিত রমেশের ডায়েরীর কোনো অস্তিত্ব নেই। একটি নোটপ্যাড রয়েছে তবে সেখানে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো বলেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়া গেলেও পদ্মা সেতু দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের মামলায় বিশ্ব ব্যাংকের কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, আদালতে উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে ঝুলেছিল বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার তদন্ত। ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুনীর্তির অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
আসামিরা হলেন: সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ফেরদাউস, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের, বাংলাদেশে এসএনসি - লাভালিনের সাব কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্লানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের ডিএমডি মো. মোস্তফা, কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি লাভালিনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক পরিচালক মো. ইসমাইল, একই বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও এসএনসি লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস।
মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে রাখা হয়।
মামলার আগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দুদক প্রথম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করে। পরে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু থেকে ঋণ প্রত্যাহার করে নিলে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে স্বীকার করে দুদক।