নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
সোমবার সকালে দুদক কার্যালয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা যনত কুমার রায় এনামুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পরে সাংবাদিকদের যতন কুমার রায় বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সাংসদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে তার যথেষ্ট সম্পদের চেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে।
এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষ এনামুল হক সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেন, হলফনামায় যে অসঙ্গতির কথা বলা হয়েছে তা ঠিক নয়।
দুদুককে চ্যালেঞ্জ করে এনামুল বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তার যাবতীয় সম্পদ স্বাভাবিক ভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোনো অবৈধ সম্পদ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংসদ এনামুল হক ২০০৮ সালে বেতন-ভাতা থেকে আয় করেন ২০ লাখ টাকা। হলফনামার বিবরণ অনুসারে কৃষি, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা ও পেশা থেকে বছরে তার আয় ৫০ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নবম সংসদের ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর হলফনামা নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সাংসদের হলফনামা ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য থেকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানি প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাংসদ আসলামুল হক, এনামুল হক ও কক্সবাজারের সাংসদ আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
তাদের সঙ্গে বিএনপির দুই সাবেক সাংসদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি ও মশিউর রহমান এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের বিরুদ্ধেও প্রাথমিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।