মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেয়ার দায়ে ৫ সচিবের বিরুদ্ধে অবশেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিলেছে।
এছাড়া সনদ স্থগিত হওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব, বর্তমানে বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়া তিন সচিব ও এক যুগ্ম-সচিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রথমে তাদের কারণ দর্শাও নোটিস পাঠানো হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়ার ঘটনায় তিন সচিব ও এক যুগ্ম-সচিবের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদারকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
জনপ্রশাসনের এ চার কর্মকর্তাকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গত ১৪ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসনের পাঁচ কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর চার জনের সনদ ও গেজেট বাতিল করে আদেশ জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর আগে যাচাই-বাছাইয়ের জটিলতার কারণে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের সনদ স্থগিত করছিল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাকি ৪ জনের সনদ বাতিল করা হয়েছিল।
মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ও ভুল প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের বিষয়টি অনুসন্ধানে প্রমাণিত হলে ৫ সচিবের সনদ ও গেজেট বাতিল করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। একইসঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কেও সুপারিশ করেছিল সংস্থাটি।