ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও মহান আল্লাহ ও ইসলাম ধর্মের অনুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আল বদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামী।
নিজামীর মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিমতে, মদিনা সনদের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজামী এবং তার দল নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। ট্রাইব্যুনালের এ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে ইসলামি চিন্তাবিদরা মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সংগঠন হিসেবে জামাতেরও বিচার চান।
মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজামীর ফাঁসির আদেশ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সূরা হজে ২৬ নম্বর আয়াতে একমাত্র কাবাঘরকে আল্লাহর ঘর বলা হলেও নিজামী পাকিস্তানকে ‘আল্লাহর ঘর’ বলেছেন। নিজামী আসলে চেয়েছিলেন, ছাত্র সংঘের তরুণেরা যেন অন্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের ইসলামের শত্রু মনে করে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) হিজরতের পর মদিনা নগরীতে বসবাসরত মুসলিম ও অমুসলিমদের একসঙ্গে বসবাসের চুক্তি করেন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন যা মদিনা সনদ নামে পরিচিত। তবে নিজামীর দল জামাত মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হিন্দুদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। মদিনা সনদ অনুসারে রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহারের সুযোগ নেই।
জামাত নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের মূল বাণীর অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মভীরু মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
এদিকে, মদিনা সনদের ওপর ভিত্তি করে বই লেখার পরও মুক্তিযুদ্ধকালে নিজামীর ভূমিকা পুরোপুরি বিপরীত ছিল।
ট্রাইব্যুনালের মতে মুক্তিযুদ্ধে জামাত, ইসলামী ছাত্র সংঘ, আলবদর ও রাজাকার বাহিনী যেসব অপরাধ করেছে, সেগুলো পবিত্র কোরআন ও হাদিস অনুমোদন করে না।
আসামিপক্ষ দাবি করেছে, নিজামী একজন সুপরিচিত ইসলামিক পণ্ডিত। কিন্তু ঘাতক আলবদর বাহিনী গঠন ও নেতৃত্ব দিয়ে নিজামী পবিত্র কোরআনের নিষেধাজ্ঞা এবং রাসূলের অনুশাসন ভঙ্গ করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের এ পর্যবেক্ষণকে যথার্থ বলছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। তারা মনে করেন, বদরবাহিনীর প্রধান নিজামীসহ জামাত ও তাদের দোসররা ইসলামের নাম ব্যবহার করেই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ করে।
তবে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার ব্যাপারে একমত হলেও জামাত প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে তাদের। কেউ বলছেন, মুক্তিযুদ্ধে অপকর্মের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা করতে হবে জামাতকে।
আবার কেউ মনে করেন, ব্যক্তির পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে জামাতের বিচার করা উচিত।