বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৮ ডিসেম্বর তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার তাকে তলব করে নোটিশ পাঠিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পত্রিকার প্রতিবেদনে মুসার আয়, আয়ের উৎস ও জীবনযাপনের কথা যেভাবে প্রকাশিত হয়েছে, সেটা দুদকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাই তার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মীর জয়নুল আবেদীনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীর ঈদসংখ্যায় মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সাময়িকীতে এ ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তার জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হয়।
বিজনেস এশিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা, তেল বাণিজ্য ও কেনাবেচার মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছেন মুসা। ড্যাটকো নামে তার জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিবেদনে মুসাকে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার ‘জনক’ বলা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের দ্য উইকলি নিউজ সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসা বিন শমসের সবসময় সবচেয়ে সেরা জিনিস ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। তিনি প্রতিদিন গোলাপ পানিতে গোসল করেন । নিত্যদিনের চলাফেরা বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে অঙ্গসজ্জা ও বেশভূষায় তিনি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের অলঙ্কার ব্যবহার করেন।
২০১০ সালে বাংলাদেশের একটি ট্যাবলয়েড দৈনিকে ছাপা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মুসার সম্পদের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
গত ৩ নভেম্বর কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মুসার সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।