ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া শাহনূর আলম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার গভীর রাতে আসামের নলবাড়ি জেলার লবকুচি গ্রাম থেকে শাহনূরকে গ্রেপ্তার করে আসাম পুলিশ। পরে তাকে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে তুলে দেয়া হয়।
গতকাল শনিবার শাহনূরকে আসামের কামরূপ আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নিয়েছে।
গত মাসে শাহনূরের স্ত্রী সুজিনা বেগমকে আসামের গুয়াহাটি থেকে এক নাবালক ছেলেসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শাহনূর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পরিচয় নিশ্চিত করতে স্ত্রীকে দিয়ে শনাক্ত করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শাহনূর বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘বৃহত্তর ইসলামিক বাংলাদেশ’গড়ার ষড়যন্ত্র করছিল জেএমবি। এ তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে প্রতিবেদন পাঠাতে পারে এনআইএ। এরপর বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা আবারও কলকাতায় এসে শাহনূরকে জিজ্ঞাসবাদ করবে কি না।
গত ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক বিস্ফোরণে শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল নামের দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় জেএমবি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় জড়িত হিসেবে ১১ জনের তালিকা প্রকাশ করে এনআইএ। এর মধ্যে পল্লি চিকিৎসক শাহনূরও ছিলেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করে এনআইএ। শাহনূরকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পাঁচ লাখ রুপি পুরস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। শাহনূরের বাড়ি আসামের বরপেটা জেলার চাতলা গ্রামে।
গত মাসে স্ত্রী সুজিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাহনূরের সন্ধান পায় এনআইএ। একপর্যায়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান শাহানূর।
বর্ধমানের ঘটনায় অন্যতম তিন অভিযুক্ত সাজিদ ওরফে শেখ রহমতউল্লাহ, মিয়ানমারের নাগরিক বলে কথিত খালিদ মোহাম্মদ এবং আবদুল করিমকে এর আগে এনআইএ গ্রেপ্তার করে।
বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে এনআইএর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। ওই ঘটনায় বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত কি না, তা জানতে গত ১৭ নভেম্বর এনআইএর দলটি দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে যায়। ফিরতি সফরে ভারতে আসে বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল।
এর আগে এনআইএ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের এ বিস্ফোরণে ঘটনায় প্রধান পরিকল্পনাকারী সাজিদ, খালিদ মোহাম্মদ এবং আবদুল হাকিমকে আটক করে। তারা সবাই এখন ভারতের কারাগারে রয়েছে।
গত ২ অক্টোবর বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে শাহনূরের খোঁজ করছিল এনআইএ। তাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ রুপি পুরস্কারও ঘোষণা করে সংস্থাটি। গত মাসে শাহনূরের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে এনআই।