একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জে নিজ নামে কায়সার বাহিনী গড়ে তুলেন সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। নিজেই ছিলেন এ বাহিনীর প্রধান। হানাদার পাকিস্তানিদের সহযোগি রাজাকার বাহিনীর পাশাপাশি এই কায়সার বাহিনীর তৎপরতা ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। সেখানে মানবতাবিরোধী নানা অপরাধের নেতৃত্ব দেন সৈয়দ কায়সার। তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ও ধর্ষণসহ ৯ ঘটনায় ১৬ টি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের মুসলিম লীগ নেতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুপ্তচর সৈয়দ সাঈদ উদ্দিন আহমদের ছেলে সৈয়দ কায়সার শুরু থেকেই বাবার সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে এক সময় নিজেই গঠন করেন ‘কায়সার বাহিনী’। একইসঙ্গে শান্তিকমিটির অন্যতম সংগঠকও ছিলেন কায়সার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রায় ৬ মাসের তদন্তে বেরিয়ে আসে কায়সারের নানা মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্যপ্রমাণ। এর মধ্যে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণসহ ১৬টি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
গণহত্যা
১. ৭১ এর নভেম্বরে নাসিরনগরের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে শতাধিক লোককে হত্যা ও বাড়িঘর লুটপাটে নেতৃত্বদান।
হত্যা
২. এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০ জনকে হত্যা।
৩. ১৫ ও ২৯ মে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় পাকিস্তানিদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে হত্যা।
৪. আগস্ট মাসে চুনারুঘাট এলাকায় ৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নির্যাতন ও হত্যা এবং সেপ্টেম্বরে মাধবপুরে ৪ জনকে হত্যা করে কায়সার ও তার বাহিনী।
ধর্ষণ
৫. জুন মাসের শুরুর দিকে চুনারুঘাট এলাকায় ১ জন সাওতাল নারীকে এবং আগস্ট মাসে আরেক নারীকে ধর্ষণ করেন কায়সার ও তার বাহিনী।
অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
৬. নভেম্বরে নাসিরনগরে কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর লুটপাটে নেতৃত্বদান। এবং
৭. এপ্রিল মাসের শেষদিকে ব্রাহ্মণ বাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ )
চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি কায়সারের বিচার শুরু হয়। প্রায় ৭ মাস শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গত ২০ আগস্ট রায় অপেক্ষমান রাখে। সোমবার মামলাটি কার্যতালিকায় আসলে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কায়সার স্বাধীনতার পরপরই যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসনামালে ১৯৭৮ সালে তিনি দেশে এসে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য ও কৃষি প্রতিমন্ত্রীও হন।