বিএনপির অবরোধ-হরতালের মধ্যে দুই দিন আগে ঢাকার মাতুয়াইলে র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তাদের দুজনে বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।
ঢাকায় থাকতেন ফার্মগেইট এলাকায়। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে স্বজনদের দাবি।
যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গত মঙ্গলবার গভীর রাতে র্যা বের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হন। এদের একজন শাখাওয়াত হোসেন, অপরজন মুজাহিদুল ইসলাম (৩৩)। মুজাহিদুল এক সপ্তারও বেশি সময় নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে মুজাহিদুলের লাশ শনাক্ত করেন তাঁর ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম।
রাহাতের ভাই রিপন মর্গে সাংবাদিকদের বলেন, ২১ জানুয়ারি দুপুরে ফার্মগেইট এলাকা থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক তার ভাইকে ধরে নিয়ে যায়।
রাহাত ফার্মগেইট ‘উত্তরণ মটরসে’ চাকরি করতেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানেরই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন বলে জানান তার ভাই।
দুপুরে ফার্মগেইট এলাকায় একটি হোটেলে খাওয়া শেষে বের হওয়ার পরপরই তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন তেজগাঁও থানায় আমরা একটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করি। কোথাও তার খবর পাচ্ছিলাম না। আমার ভাই কোনো দল করত না।
দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন রাহাত। তার বাবার নাম আলমগীর হোসেন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার লুদুয়ায় তাদের বাড়ি।
সুফিয়া বেগম মোবাইল ফোনে দাবি করেন, তিন বছর ধরে ফার্মগেটের উত্তরণ টায়ার নামের একটি দোকানে চাকরি করত ছেলে। ২১ জানুয়ারি দুপুরে ছেলে হোটেলে ভাত আনতে গেলে সাদা পোশাকের লোকজন তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এ ব্যাপারে উত্তরণ টায়ারের ব্যবস্থাপক শাহ আলম তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তিনি নিজে ঢাকায় এসে ২৭ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলা করে তিনি গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে ফিরে যান।
সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আজকে মামলাটি গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) তদন্ত করতে দেয়া হয়। এ জন্য আমি ঢাকা আসছিলাম। কিন্তু সকালে ঢাকা থেকে খবর পাই, আমার ছেলের লাশ মর্গে আছে।’
নিহত শাখাওয়াতের খালাত ভাই রিপন বলেন, ‘শাখাওয়াত রাজনীতি করত, এমন কথা কখনো শুনিনি।’
জিহাদের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম সোহাগ মর্গে লাশ সনাক্ত করে সাংবাদিকদের বলেন, কারওয়ান বাজারে সবজির ব্যবসা করতেন তার ভাই। থাকতেন ফার্মগেইট এলাকায়।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী সোহাগ বলেন, দুই বছর আগে তিনি জিহাদকে তার সঙ্গে প্রবাসে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুই মাস থাকার পর ফিরে আসেন জিহাদ।
জিহাদ ফার্মগেইটে কোথায় থাকতেন, তা জানা নেই সোহাগের। সংবাদপত্রে ছবি দেখে তিনি ভাইয়ের লাশের জন্য মর্গে যান।
সোহাগও দাবি করেন, জিহাদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
চার ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে জিহাদ অষ্টম। তার বাবার নাম আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ভূঁইয়া বাড়ি।
রাহাত ও জিহাদ দুজন দুজনকে চিনতেন কি না, তা তাদের স্বজনরা বলতে পারেননি।
র্যা বের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি জোটের অবরোধের মধ্যে বাহিনীর টহল গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়েছিল রাহাত ও জিহাদ।
তাদের মৃত্যুর পর র্যা বের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান সাংবাদিকদের বলেন, পেট্রোল বোমা ছোড়ার পর র্যা ব সদস্যরা গাড়ি থেকে নামলে সামনে পাঁচ/ছয়জন দুর্বৃত্তকে দেখা যায়। তারা গুলি ছুড়লে র্যা ব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। এক পর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে গেলে সেখানে দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরানুল ইসলাম বলেন, বন্দুকযুদ্ধের’ ওই ঘটনায় থানায় দুটি মামলা হয়েছে।