ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার জঙ্গি ও রাজনৈতিক কানেকশনের কথা উদ্ধারে এখন ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাযহার খান নামের ওই কর্মকর্তা আসলে ছিলেন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সদস্য যিনি কূটনৈতিক আড়ালে চাকরি করতেন।
পুলিশ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশিদের বিশেষ করে কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ও জামাত-শিবির নেতাদের সন্ধান করছে। জঙ্গি তৎপরতাসহ সাম্প্রতিক নাশকতা-সহিংসতায় অর্থায়নে মাযহারের ভূমিকার তথ্যপ্রমাণও গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে।
মাযহার খান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এ সদস্য ছদ্মপরিচয়ে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে সহকারী ভিসা কর্মকর্তার চাকরিতে আসেন ২০১৩ সালে। ফৌজদারি অপরাধে ধরা পড়ার পর বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে গত ৩১ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তান ফেরত যান।
পুলিশের কব্জায় আসাতেই বেরিয়ে আসে গত দুইবছরে মাযহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী আইএসআই-তৎপরতা। দূতাবাসে চাকরির আড়ালে তিনি ছিলেন ভিন্ন এক মিশনে। ছিল জাল নোট তৈরি ও মুদ্রা পাচারের নেটওয়ার্ক। মূলত ভারতীয় রুপি নিয়ে কারবারের মধ্যেই তার কানেকশন ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ও জামাত-শিবির চক্রের সঙ্গে।
গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো মতে, বাংলাদেশের মুদ্রাবাজার ধ্বংস ছিল তার কাজের একটি টার্গেট আর আরেক মিশনে মাযহার খান কাজ করতেন জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা ও নাশকতার কাজে অর্থায়নে। এ জন্য তার পছন্দের একটি দলবলও ছিলো। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিকই নয়, তাদের বিস্তৃতি ছিলো সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, যশোর ও বেনাপোলেও।
গোয়েন্দাদের ধারণা, এ তৎপরতায় ভারতে বর্ধমানের জঙ্গি ঘটনার সঙ্গেও তার যোগসাজশ থাকতে পারে।
মাযহার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর বনানী মৈত্রী মার্কেটে। সঙ্গে ছিলেন মজিবর রহমান নামে এক বাংলাদেশি। মুহূর্তের মধ্যে মাযহার তার কাছে থাকা কিছু কাগজ ছিঁড়ে ফেললে পুলিশ তা জোড়া লাগিয়ে দেখতে পায় সেগুলো হিযবুত তাহরীরের বেশ কিছু নেতার পাসপোর্ট-ভিসার কাগজ। কূটনৈতিক প্রটোকলে মাযহার ছাড়া পেলে তাকে পাকিস্তান ফেরত পাঠানো হয়।
এরমধ্যেই আদালতে দেয়া মজিবরের স্বীকারোক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মাযহারের আইএসআই তৎপরতার আদ্যপান্ত। জঙ্গিদের অর্থায়নের পাশাপাশি সাম্প্রতিক নাশকতায় টাকা ঢালতেও তার সম্পৃক্তির প্রমাণ মিলেছে। এখন অন্যদের সঙ্গে তার যোগসাজশের মধ্যে থাকা পাকিস্তান হাইকমিশনের আরো কিছু কর্মী ও পিআইএ-র কিছু কর্মকর্তাও এজন্য পুলিশের নজরদারিতে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুল রশীদ বলেন, বাংলাদেশে আইএসআইয়ের তৎপরতা ও জঙ্গি নাশকতায় অর্থায়নের বিষয়টি প্রকাশ্য হওয়ায় একে হালকাভাবে নেওয়ার উপায় নেই। সরকার যেহেতু বলছে প্রমাণ আছে তাই উচিৎ পাকিস্তানের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করা।
সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীর বলেন, মুদ্রাবাজার ধ্বংস, জঙ্গিবাদ ও নাশকতায় অর্থায়নে আইএসআইয়ের এই তৎপরতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামেও তুলতে পারে বাংলাদেশ।