ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যার ঘটনায় শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় এজাহারে জঙ্গিদের দায়ী করে তার বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। শুক্রবার সকালে এ মামলা দায়ের করেন তিনি।
এ হত্যার দায় আনসার বাংলা-৭ নামের একটি সংগঠন স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। আর দক্ষ খুনিরাই অভিজিৎকে হত্যা করেছে বলে ময়না তদন্ত শেষে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যা।
লেখালেখির জন্য অভিজিৎ উগ্রপন্থিদের টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাদের পরিচিতজনেরা।
ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করছে পুলিশ।
ড. অভিজিৎ রায়-বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা। কর্মসূত্রে বেশ কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন তিনি। এবার একুশে বইমেলায় দুটি বই প্রকাশ হয়েছে অভিজিতের। সে কারণেই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অজয় রায়ের এ ছেলে।
বৃহস্পতিবার রাতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর থেকে শাহবাগের দিকে কিছুদূর এগুলে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন অভিজিৎ ও তার স্ত্রী ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যা। চাপাতি দিয়ে অভিজিতের মাথায় গুরুতর আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে অভিজিতকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তার স্ত্রী রাফিদার চিকিৎসা চলছে। হামলায় তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টা পর সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলার পর তার বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় অভিযোগ করেন, উগ্র জঙ্গিবাদীরাই এ হামলা চালিয়েছে এবং এদের মদদ দিয়েছে জামাত।
লেখালেখির কারণে অভিজিত জঙ্গিদের টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এ হামলা পূর্ব- পরিকল্পিত বলে মনে করছে পুলিশ। তবে তারা আসল খুনিদের ধরতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় খুন হওয়ার পর ‘আনসার বাংলা সেভেন’ নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক টুইট করে এ হত্যাকাণ্ডকে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিজয় হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তদন্তে এ বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়া অভিজিৎ হত্যার পরেও অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদীদের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ফারাবি সাইফুর রহমানের নাম আবারো আলোচনায় এসেছে। তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
ড. অভিজিৎ রায়ের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে অবিশ্বাসের দর্শন, আলো হাতে চলিয়াছে আধারের যাত্রী, মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজ, ভালোবাসা কারে কয়সহ বেশ কয়েকটি বই।
ঠিক এক দশক আগে ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি রাতে লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছিল, সেই একই কায়দায় হামলার শিকার হয়ে নিহত হলেন অভিজিৎ রায়।