অপরাধ

ভারতে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে

মোল্লা মাসুদ
মোল্লা মাসুদ

ভারতে আটককৃত বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদকে দেশের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোববার রাতে দেশ টিভিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।

গত ১৯ জানুয়ারি সরকারের তালিকাভুক্ত ও পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ গ্রেপ্তারের কথা নিশ্চিত করে কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড (এটিএস)। মুর্শিদাবাদ এলাকা থেকে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর এ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করার হয় বলে জানায় তারা।

এরপর অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দু'দফায় ১৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই টপ টেরর আলীপুরের প্রেসিডেন্সি কারাগারে রয়েছে। মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে র্যা বের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান সাংবাদিকদের বলেন, মোল্লা মাসুদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। অনেক দিন ধরে সে ভারতে পলাতক থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি করে আসছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও মোল্লা মাসুদের ভারতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে ঢাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মোল্লা মাসুদ। তার বিরুদ্ধে অন্তত এক ডজনের বেশি হত্যা মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৩০টির বেশি। মোল্লা মাসুদ ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। বর্ধমান বিস্ফোরণের পর ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের যে তালিকা বিনিময় হয়, তাতে মোল্লা মাসুদের নাম রয়েছে।

২০০১ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে আটজন। মারা গেছে চারজন। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পায় দু'জন। পলাতক নয়জন। পলাতকদের তালিকায় রয়েছেন মোল্লা মাসুদ। ঢাকার অপরাধীদের মধ্যে বর্তমানে মিরপুরের শাহাদাত ও জিসান দুবাই, হারিছ চৌধুরী মালয়েশিয়া, তানভীরুল ইসলাম জয় থাইল্যান্ড, ল্যাংড়া তাজগীর মালয়েশিয়া, প্রকাশ, বিকাশ ও লেদার লিটন ফ্রান্সে, কারওয়ান বাজারের আশিক ভারতে, মগবাজারের রনি দুবাইয়ে, গলাকাটা নাছির ইতালি ও মশিউর রহমান কচি ভারতে রয়েছেন।

জানা যায়, মতিঝিল ও গোপীবাগ এলাকায় একসময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন মোল্লা মাসুদ। অপরাধজগতে তার গুরু আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। সরকারের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও গ্রেপ্তারের পুরস্কার ঘোষণার পর ভারতে পালান মোল্লা মাসুদ। ভারতে মূলত তিনি আবু রাসেল মো. মাসুদ নামে পরিচিত। ভারতীয় নাগরিক রিজিয়া সুলতানাকে বিয়ে করে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় মোল্লা মাসুদ সেখানে বসবাস করছেন। সুব্রত বাইন তার ধর্ম পরিবর্তন করেন। বর্তমানে তিনি ভারতের কারাগারে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর মোল্লা মাসুদকে প্রথমে ব্যারাকপুর থানা পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়। এর পর কলকাতায় সিআইডি ফরেনার্স অ্যাক্টে দায়ের করার মামলায় আরও আট দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলার মধ্যে রয়েছে কামাল মজুমদারের ভাগ্নে মামুন হত্যা, পুরান ঢাকায় মুরগি মিলন হত্যা, খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায় ট্রিপল মার্ডার। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ঘটনায় অসংখ্য জিডি রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন মোল্লা মাসুদ। এর পর সহযোগীদের মাধ্যমে সেই চাঁদা তোলেন। কোনো কোনো ব্যবসায়ী হুন্ডির মাধ্যমে চাঁদার টাকা তার কাছে পৌঁছে দিতেন। রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের 'প' আদ্যাক্ষরের একটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে মোল্লা মাসুদের কাছে টাকা পৌঁছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে। এ ছাড়া কলকাতায় লিয়াকত খান নামের একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে মোল্লা মাসুদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশি এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সব ধরনের সহায়তা করেন লিয়াকত।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ভারতে পলাতক বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী সারা বছর চাঁদাবাজি করলেও তারা মূলত দুটি ঈদ ঘিরে রমরমা চাঁদাবাজি করে। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানে তাদের শিষ্যরা দরপত্র জমা দেন। এর পর ওপার থেকে ওই দরপত্র পাওয়ার তার শিষ্য সন্ত্রাসীরা তদবির করে থাকেন। এ ছাড়া কোরবানির পশুর হাট থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে পলাতক সন্ত্রাসীরা। অনেক সময় উপায়ান্তর না পেলে তারা অবস্থান পরিবর্তন করেন।

বর্তমানে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে যারা রাজধানীতে চাঁদা আদায় করছে, তারা হলেন- বিদ্যুৎ, কাওসার, আমান, জামাই শাহিন, এমরান, উত্তম, মোক্তার, রানা, সোহেল, ময়না, ফিরোজ, আসলাম, নান্টু , ভাগিনা জুয়েল, আনিস, ইসহাক, মনেশ, ঝন্টু, নাসির, মহিউদ্দিন, কাজ, মামুন, আমিন, গালকাটা বিল্লাল, সুইপার মুন্না, মানিক, ফরিদ, সিদ্দিক, আক্তার, মুকুল, মাহবুব, রুমেল, মাহমুদ, জুয়েল, সুলতান, শাহ জামাল, চাঁদাবাজ আবুল, আজিজ ও মাতুয়াইলের তুহিন।

২০১২ সালে সরকারের তালিকাভুক্ত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আদালত থেকে জামিনের পর কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পরপরই রঙিন গ্গ্নাসের একটি গাড়িতে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করেন বিকাশ। বিকাশ ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন। তার ভাই প্রকাশও সরকারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী। এ ছাড়া ২০১২ সালে পুরান ঢাকার ত্রাস ডাকাত শহীদ র্যা বের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

শাওন নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা

স্ত্রীকে হত্যার জন্য খুনিদের তিন লাখ টাকা দেন বাবুল: পিবিআই

পি কে হালদারের দুই নারী সহযোগী গ্রেপ্তার

সেদিন ক্রেন চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী

জন্মদিন পালনের কথা বলে নারী চিকিৎসককে হোটেলে নেন হত্যাকারী

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীতে দুই মানব পাচারকারী গ্রেফতার

ওসমানী মেডিকেলে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ