মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় ২০১৩ সালের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। রোববার (৫ এপ্রিল) পুনর্বিবেচনার আবেদন বাতিল কবে আদালত কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সদস্যদের নিয়ে গঠিত আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রধান সংগঠক ছিলেন মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। সেই সময় হত্যা ও গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি।
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের আলবদর প্রধান ছিলেন জামাতের বর্তমান সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের মধ্য দিয়ে তাকে বিচারের আওতায় আনা হয়।
২০১০ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় কামারুজ্জামানকে। একই বছর ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
২০১১ সালে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলে; বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় পরের বছর ৩১ জানুয়ারি। ৭টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয় তার বিরুদ্ধে।
২০১৩ সালের ৯ মে মামলার রায়ে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদন্ডা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
পরে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও।
চলতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে মৃত্যু পরোয়ানায় সই করে কারাগারে পাঠায় ট্রাইব্যুনাল। পরে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। আজ (সোমবার) মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগগুলো হলো:
অভিযোগ ১:
৭১ এর ২৯ জুন শেরপুরে বদিউজ্জামানকে গুলি করে হত্যা।
এ অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগের রায়ে খালাস পেয়েছেন কামারুজ্জামান।
অভিযোগ ২:
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাইদ আবদুল হান্নানকে নির্যাতনে অভিযোগে কামারুজ্জামানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। সংখ্যাগরিষ্ট মতে এ রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
অভিযোগ ৩:
২৫ জুলাই শেরপুরের সোহাগপুরে একদিনেই ১২০ জনকে হত্যা ও নারী ধর্ষণ।
এ অভিযোগে কামারুজ্জামানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ।.
অভিযোগ ৪:
২৩ আগস্ট শেরপুরের নারায়ণপুরে গোলাম মোস্তফাকে গুলি করে হত্যা।
চতুর্থ এ অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেও আপিল বিভাগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।
অপর একটি অভিযোগ ছিল; ৭১ এর রমজান মাসে শেরপুরের চকবাজার ও ময়মনসিংহের কাঁচিঝুলিতে গণহত্যা ও নভেম্বরে ময়মনসিংহে টেপা মিঞাকে বেয়নেট দিয়ে হত্যা।
এ অভিযোগে কামারুজ্জামনকে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এ দণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগও।