রাজধানীতে মাইক্রোবাসে তুলে গারো তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার তুষার ও লাভলুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
ঢাকার মহানগর হাকিম অমিত কুমার দে বৃহস্পতিবার পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ভাটারা থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন বলেন, দুপুরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।
বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষ, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ওকালতনামা দাখিল করা হয়।
তবে এসব সংগঠনের পক্ষে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী আব্দুর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।
এদিকে, ওকালতনামা না দিলেও আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামির পক্ষে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম ও ফারুক আহমেদ।
তারা যুক্তি দেন, আসামিরা যেহেতু গ্রেপ্তার হওয়ার পর সব স্বীকার করেছে, আলামতও যেহেতু পাওয়া গেছে, সেহেতু তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর যৌক্তিকতা নেই।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে লাভলু ও পটুয়াখালী থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে তুষার ও লাভলু। এ ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি রাজধানীর বনানী থেকে জব্দ করা হয়েছে।
যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী ২১ বছর বয়সী এই তরুণী গত বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িলে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন একদল যুবক তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করে।
পরদিন ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে নিয়ে ভাটারা থানায় মামলা করে তার পরিবার। এজাহারে বলা হয় চলন্ত মাইক্রোবাসে পাঁচ জন মিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
ওই ঘটনার পর মামলা নিতে অবহেলার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পাঁচ মানবাধিকার সংগঠনের রিট আবেদনে হাইকোর্ট তিনটি রুল জারি করে।
মামলা নিতে বিলম্ব কেন ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হবে না, অবহেলার জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এবং ধর্ষিতাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।