রাজধানিতে আলোচিত জোড়াখুনের আসামি সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম রনির পিস্তলের গুলিতেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে রনি। রোববার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের- ডিএমপির গণমাধ্যম শাখায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থানের কারণে এ মামলার তদন্তে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থানের কারণে এ মামলা তদন্তে রনিকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে রনি জানিয়েছে সে গাড়ির ভেতরে ছিল, গাড়ির কাঁচ নামিয়ে গুলি করেছে।’ সে যেটি বলেছে ও চালকের মুখ থেকে যা বের হয়েছে তাতে এরোপাতারি গুলি চালিয়েছে।
এছাড়া ওই সময় গাড়িতে অবস্থান করা আরো দুজনকে সনাক্ত করা হয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
গত ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন আওয়ামী লীগের সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। ওই গুলিতে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম গুলিবিদ্ধ হন।
পরে তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ৩১ মে রনি ও তার গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৯ জুন রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতে রিমান্ড প্রতিবেদনে পুলিশ বখতিয়ারকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য আবেদন না করায়—সাংসদপুত্রকে রক্ষা করা হচ্ছে--- পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় ডিএমপি মুখপাত্র তার ব্যাখ্যা দেন।
ডিএমপি মুখপাত্র বলেন, ‘কোনো ধরনের কোনো মহল থেকে চাপ প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই কোনো চাপ ও নেই ফলে স্বাধীনভাবে অন্য খুনিদের যেভাবে দেখা হয় বখতিয়ার আলম রনির কোনো পার্থক্য নেই। তার বাবার পরিচয় বা তার মাতার পরিচয় এবং তার সামাজিক- আর্থিক অবস্থানের কথা বিচার করার সুযোগ নেই।’