সাংসদ পুত্র রনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলেও রাজধানীতে জোড়া খুনের ঘটনায় তাকে দোষী প্রমাণিত করতে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সকালে কালো রঙের এই গাড়িটি সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, রনির লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি করা হয়েছিলো বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের গায়ে বিদ্ধ হওয়া গুলি ও রনির অস্ত্রের ব্যালিস্টিক রিপোর্টের জন্য তা সিআইডিতে পাঠানো হেয়েছে। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেলেই রনির সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র বলেন, প্রথম থেকেই রনি জবানবন্দি দিতে অনীহা করছিলেন। তবে রনি ওই জোড়া খুনের ঘটনায় সাক্ষ্য না দিলেও অন্যান্য সাক্ষীর জবানবন্দিতেই তিনি দোষী প্রমাণিত হবেন।
এছাড়া, রনি নিজেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুলি করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। এই খুনের মামলাকে কেউ কোনোভাবে প্রভাবিত করছে না, গোয়েন্দা পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে নিউইস্কাটনের রাস্তায় এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে রিকশাচালক ও জনকন্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালককে হত্যা করে সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম রনি। সে সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করেছে পুলিশ।
পরে তাদের হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত ৩১ মে রনি ও তার গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৯ জুন রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।