জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডের’ শীর্ষ নেতা মনিরুজ্জামান মাসুদ ওরফে ডনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা জমা দেয়ার কথা র্যা বের কাছে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা।
তবে শাকিলার দাবি জঙ্গি অর্থায়নের জন্য তিনি টাকা দেননি, হেফাজতে ইসলাম ও হামজা ব্রিগেডের মামলা পরিচালনায় এ অর্থ লেনদেন হয়েছিল।
এদিকে, শহীদ হামজা ব্রিগেড দেশের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের নাশকতার লক্ষ্যে চট্টগ্রামে সামরিকসহ বিভিন্ন শাখা গঠন করছিলো বলে জানায় র্যা ব। জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে সম্প্রতি তিন আইনজীবী গ্রেপ্তার হওয়ায়, আরো অনেকে হামজা ব্রিগেডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যা ব)।
১৮ আগষ্ট রাতে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব। এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা রয়েছেন।
তিনি নিজেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য পদেও আছেন তিনি।
এদিকে, গ্রেপ্তার তিন আইনজীবীকে এর পরের দিন আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে র্যা ব। বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ হোসেন তাদের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন চারধাপে মোট ১ কোটি আট লাখ টাকা হামজা ব্রিগেডের শীর্ষ নেতা ডনসহ কয়েকজনের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা প্রথম দফায় ৫২ লাখ টাকা ও পরে আরো ২৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।
এছাড়া, আইনজীবী হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লাখ টাকা এবং মাহফুজ চৌধুরী বাপন দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।
এ বছরের শুরুর দিকে শহীদ হামজা ব্রিগেড নামে জঙ্গি সংগঠনটির সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চট্টগ্রাম শহরে নাশকতার লক্ষ্যে অস্ত্র সংগ্রহ ও শক্তি বৃদ্ধি করছিল এর সদস্যরা।
আদর্শিক মিল আছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র ও টাকা সংগ্রহ করে আসছিলো তারা। যাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছে। মূলত শহরকেন্দ্রিক নাশকতা ঘটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলাই ছিল তাদের লক্ষ্য। এমনকি তারা সামরিক শাখাও গঠন করে।
শহীদ হামজা ব্রিগেড চট্টগ্রামকে সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য উপযোগী বিবেচনা করে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তোলে তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাঁশখালীর পাহাড়ে এমন একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের সন্ধান পায় র্যা ব। সেখান থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত-তা খুঁজে বের করতে র্যা ব অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।