অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি মামলায় টেরিটাওয়েল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এমডি খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরিন হাসিবসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় এ অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
২০১৩ সালের ২৯ মার্চ শাহজালাল ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার ব্যবস্থাপক মো. নকিবুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় খাজা সোলেমান চৌধুরীসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন যা পরবর্তীতে তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের গ্রাহক মেসার্স বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল দলিল দেখিয়ে ভুয়া রপ্তানি বিলের বিপরীতে এফডিবিপি ও ব্যাক টু ব্যাক এলসিতে ফান্ডেড মোট ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
এতে মুনাফাসহ ব্যাংকের মোট ক্ষতি হয়েছে ১১০ কোটি ৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে আসামিদের ওই অর্থ আত্মসাতে প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল। এদের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে উক্ত কোম্পানি কর্তৃক মালামাল রপ্তানি না করা সত্ত্বেও ব্যাংকে দাখিলকৃত ভুয়া রপ্তানি বিল ও জাল কাগজপত্রের বিপরীতে অর্থ ছাড় করেছেন।
এর আগে বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় ২০১৩ সালে ৩ নভেম্বর মতিঝিল ও রমনা মডেল থানায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি ও ১৩ জন কর্মকর্তাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলেমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী নওরীন হাবিব ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে দুদক।