রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেল্লাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও আইসিসিও কো-অপারেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলেন ব্যানডার বিগ গুলশান থানায় সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় আমরা শোকাহত ও মর্মাহত। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, রাজধানীর গুলশানে গতকাল সোমবার ইতালীয় নাগরিককে হত্যা করার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমন ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ গতকাল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, আইএসের কথিত দাবি সত্য নাকি বিভ্রান্তিকর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে— এ হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইতালির নাগরিক তাভেল্লা (৫০) নিহত হন।
আইএসের দাবির বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে, উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের নামে এক অনলাইন বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে তুলে ধরেছে।
তাবেলা সিজার নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আইসিসিও-বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রুফস প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কাজ করে।
গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সিজার তাভেল্লা। এ সময় তিন যুবক মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে দুজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি ছোড়ে। তিনটি গুলিই তার শরীরে বিদ্ধ হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পথচারীরা তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু খোয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, তাভেল্লা সিজার আইসিসিও-বিডির যে কার্যালয়ে চাকরি করতেন, সেটি গুলশান-২-এর ৩০ নম্বর সড়কে অবস্থিত। ৫৪ / ৫১ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন।
এর আগে ২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানের ১১৭ নম্বর সড়কে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর এ মামলায় পাঁচ আসামিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয় আদালত। আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।