রাজধানীর পুরোনো অংশে আশুরা উপলক্ষে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলার সময় বোমা হামলায় একজন নিহত হওয়ার ঘটনা প্রথম ঘটানো হলো।
এদিকে, ভোররাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এটি কোন জঙ্গী হামলা নয়। দেশে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তারাই পরিকল্পিতভাবে এ নাশকতা করেছে।
তিনি আরো বলেন, তাজিয়া মিছিলের জন্য সেখানে পুলিশ, র্যা ব এবং সাদা পোশাকে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়েছিল। এমন নিরাপত্তার মধ্যে বোমা হামলাকারীরা তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয়ার সাজ নিয়ে হোসেনী দালান কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে ঘটনা ঘটিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরান ঢাকার হোসেনি দালান চত্বরে গত রাত ২টার দিকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। তবে
আর বেসরকারিভাবে ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে এ প্রথম তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটলো। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হোসেনী দালান চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় হতাহতদের ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে।
পুলিশ ওই জায়গাগুলো এবং বোমা হামলার জায়গা হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির সদস্যরা ফিতা দিয়ে ঘেরা জায়গাগুলো থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোসেনী দালান চত্বরে সিসিটিভির ফুটেজও পুলিশ সংগ্রহ করেছে, বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই সাজ্জাদ হোসেন নামের পনেরো বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়।
নিহত কিশোরের বাড়ি লালবাগ এলাকায় এবং তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে সেখানে এসেছিল। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের চিকিৎসায় অনেক মানুষ হাসপাতালে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগই আশঙ্কামুক্ত।
স্থানীয় চকবাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি আজিজুল হক জানিয়েছেন, তাজিয়া মিছিলের জন্য হোসেনী দালান চত্বরে এক হাজারের বেশি শিয়া মুসলিম জড়ো হয়েছিলেন। তাদের মিছিল শুরু করার প্রস্তুতির সময়ই পর পর ৩টি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহজনক ৩জনকে আটক করা হয়েছে— এছাড়া বিস্ফোরণ হয়নি, এমন ২টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ উল্লেখ করেছে, উদ্ধার করা বোমাগুলো কালো কসটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল— এগুলো হাতে তৈরি গ্র্রেনেড বলে পুলিশ ধারণা করছে।
এ তাজিয়া মিছিলের সংগঠকদের অন্যতম একজন এম এম ফিরোজ হোসাইন বলেছেন, আমরা শিয়া মুসলিমরা চারশো বছর ধরে ঢাকায় এই তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করে আসছি। কখনও আমরা কোন ধরনের হুমকি পাইনি এবং কখনও আমাদের ওপর কোন হামলাও হয়নি। বাংলাদেশে সকলের সাথে ভালো সম্পর্ক এবং সম্প্রীতির পরিবেশ আমরা পেয়েছি। এখন এ হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক।
তিনি আরো বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এ হামলা করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা