ইসলামী ছাত্র শিবিরের অনেক নেতাকর্মী নতুন জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডে যোগ দিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছে—প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামজা বিগ্রেডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে দুই জামাত-শিবির কর্মী।
দেশ টিভিকে এসব কথা জানান চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন।
তারা হলেন: শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সাহাদুর রশিদ চৌধুরী (২৯) ও সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল (৩২)।
হামজা ব্রিগেডের সংগঠকরা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়ার জন্য শিবিরের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে—এ কথা উল্লেখ করে মহসিন বলেন, জঙ্গি হামলার মধ্যদিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করাই এদের লক্ষ্য।
পুলিশ জানিয়েছে, শিবির নতুন কোন সংগঠনের ব্যানারে নাশকতা চালাতে পারে। এটা মাথায় রেখেই আইনশৃংখলা বাহিনী কাজ করছে।
এদিকে, সোমবার সারাদিনে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে নাশকতার আশঙ্কায় জামাত-শিবিরের ১৮ নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ২৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারী ' আল মাদরাসাতুল আবু বকর' থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২২ জনকে আটকের পর প্রথম সামনে আসে নতুন জঙ্গি সংগঠন ' শহীদ হামজা বিগ্রেড' এর নাম। এ হামজা ব্রিগ্রেডের সঙ্গে অনেক শিবিরের নেতাও যুক্ত হয়েছেন।
গত রোববার ভোরে নগরীর বাকলিয়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইসমাইল ও প্রচার সম্পাদক শাহাদুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া হামজা ব্রিগ্রেডের নাছির ও ডন একসময় শিবির করত। এদের মধ্যে নাছির শিবিরের নগর শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশকে শাহাদুর রহমান আরো জানিয়েছে, সাদা জাহেদ নামের একজন তার সাথে যোগাযোগ করে হামজা ব্রিগ্রেডে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিলে সে গ্রহণ করেনি। তবে শিবিরের দক্ষিণ শাখার কেউ কেউ হামজা ব্রিগ্রেডের সঙ্গে জড়িত হয়।
্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন বলেন, শহীদ হামজা বিগ্রেড মূলত রোহিঙ্গাদের জন্য কাজ করার কথা বলে এনজিও'র মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষকে দলে ভেড়াচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য নাশকতা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড। জামাত ও হেফাজতের সাবেক অনেক কর্মী এই দলে রয়েছে।