রাজধানীর ওয়ারিতে ‘ঘরোয়া’ হোটেল শ্রমিক রিয়াদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মালিক সোহেলকে গ্রেপ্তার ও তার ফাঁসি দাবিতে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট- সুইট মিট ফেডারেশনের নেতা ও কর্মীরাসহ সাধারণ জনগণ।
এদিকে, একই দাবিতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মানববন্ধন করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ।
বেলা ১২টার দিকে জেলার হাজীগঞ্জ বাজারের চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মানববন্ধনে রিয়াদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন অংশ নেয়।
এ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবালুজ্জামান ফারুক, হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সাত দিন পেরিয়ে গেলেও হোটেল শ্রমিক রিয়াদ খুনের প্রধান আসামি হোটেল মালিক সোহেলকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এটি মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
প্রসঙ্গত: চুরির অভিযোগে রেস্তোরাঁ কর্মচারী রিয়াদকে পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যার পরছিনতাইয়ের ‘নাটক সাজিয়ে’ মরদেহ হাসপাতালে নেয়ার অভিযোগ উঠে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ওয়ারির ৭৩ নম্বর স্বামীবাগে ‘ঘরোয়া হোটেল’ নামের এক রেস্তোরাঁয় মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে কর্মচারী রিয়াদের পা বেঁধে মালিক নিজেই গুলি করেছে বলে স্টাফরা জানান।
রিয়াদ হোসেন (২০) মতিঝিলের ওয়ারিতে ‘ঘরোয়া হোটেল’ নামের এক রেস্তোরাঁয় কাজ করত।
ওই রেস্তোরাঁর ম্যানেজার শফিককে রিমান্ডে নেয়া হয়। তবে রেস্তোরাঁর মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ওই সময় জানা যায়, রাত ২টার দিকে গুলিবিদ্ধ রিয়াদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে পুলিশকে বলা হয় মতিঝিলে ছিনতাইকারীর গুলিতে তিনি নিহত হয়েছে।
রিয়াদের এক সহকর্মী হাসপাতাল ফাঁড়ির পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হককে বিষয়টি জানান। পরে বুধবার সকালে গণমাধ্যমে খবরও আসে।
রিয়াদের ভাই রিপন হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে এর সঙ্গে রেস্তোরাঁ মালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। পুলিশও পরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের হাটিলা ইউনিয়নের হাড়িয়াইন গ্রামের ছেলে রিয়াদ কাজ করতো রাজধানীর ঘরোয়া হোটেলে। গত ২৭ অক্টোবর রিয়াদকে গুলি করে হত্যা করে ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেল।