বদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মন্ত্রী হয়ে সবসময় দম্ভোক্তি করে বলতেন মুক্তিযুদ্ধে তিনি বা তার দল জামাত মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধে জড়িত ছিলো না। এমনকি মুক্তযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলার মতো ঔদ্ধত্যও দেখিয়েছেন।
পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘাতকবাহিনী আলবদরের অন্যতম শীর্ষনেতা হিসেবেই তার অপরাধগুলো প্রমাণিত হয়, দণ্ডিত হন সর্বোচ্চ শাস্তিতে। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আপিল বিভাগেও সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। খারিজ হয়েছে রিভিউ আবেদনের শুনানিও। এখন শুধু ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষা এ যুদ্ধাপরাধীর।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আল বদর বাহিনীর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও অক্টোবরের দিকে প্রধানের দায়িত্ব পান। বিজয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে সরাসরি জড়িত ছিলেন জামাতের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ।
বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এ বদর কমান্ডারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তের পর ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭ টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করা ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদের বিরদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
অপরাধ সমূহ:
শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেন হত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, দেশান্তরের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
সুরকার আলতাফ মাহমুদ ও জাহানারা ঈমামের ছেলে রুমি, বদী, আযাদ, জুয়েলসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার নির্দেশের অভিযোগে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ফরিদপুরের রণজিৎ নাথ ওরফে বাবু নাথকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে দেয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।
এছাড়া, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ জনকে হত্যা, বাড়িঘর পোড়ানো আর আবু ইউসুফ পাখি নামে একজনকে আটক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয় মুজাহিদকে।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার পাশাপাশি ফরিদপুরের বকচর গ্রামে হিন্দুদের হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।
তবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ। এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে জড়িত কোনো যুদ্ধাপরাধী সর্বোচ্চ সাজা পেলেন।