দুর্নীতির একটি অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি।
জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভার মেয়র থাকার সময় রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
তবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছর দুদকের করা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
দুদক সূত্রে আরো জানা গেছে, বদি ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে পৌরসভার রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
টেকনাফ পৌরসভার ওই সময়ের প্রকৌশলী লতিফুর রহমান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ইসমাইলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ছিল। অভিযোগটি যাচাই বাছাই করে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের অনিষ্পন্ন শাখায় অভিযোগটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকে। সম্প্রতি দুদকের চট্টগ্রাম-২-এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়া হয়। সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। অনুসন্ধান শেষে বিষয়টি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অভিযোগটি নথিভুক্তির অনুমোদন দেয়।
ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেও বদির বিরুদ্ধে দুদকের করা একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
গত বছরের ২১ আগস্ট বদির বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করেছে দুদক। এতে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখাতে কম দামি সম্পদের বেশি দাম (১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা) দেখানো হয়েছে।
ওই বছরের ১২ অক্টোবর এ মামলায় সাংসদ বদি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে আত্মসমর্পণ করায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৬ অক্টোবর নিম্ন আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করেন। এ আদেশের পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন (রিভিশন) করেন। পরে হাইকোর্ট তার ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে। ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক আবেদন করলে চেম্বার আদালত তাতে কোনো আদেশ দেননি। এর ফলে ৩০ অক্টোবর সাংসদ বদি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এ বছরের ৬ মে ওই মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এতে বদির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার সম্পদ অর্জন ও দুদকের কাছে দেয়া সম্পদের বিবরণীতে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার কথা বলা হয়।