ভারতের বলিউডের গুলশান কুমার হত্যা মামলার আসামি আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সোমবার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
কামাল বলেন, এক্সচেইঞ্জ করে কাউতে দিতে হবে বা আনতে হবে তা নয়—বিদেশি দোষী যারা বিশেষ করে (দাউদ মার্চেন্টের) সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের কয়েকজন আমাদের কারাগারে রয়েছে। যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ফেরত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তির পর সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হস্তান্তর শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দেয় বাংলাদেশ।
দুবাইয়ে থাকা ভারতীয় ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত দাউদ মার্চেন্টের ক্ষেত্রেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
গতবছর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দাউদ জামিন পেলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তির পরপরই তাকে আবার আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেয়া হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে দাউদকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আলোচনা তোলা হলেও বিষয়টি এতোদিন গতি পায়নি।
দাউদ মার্চেন্টের সাজা শেষ হওয়ার কথা বললেও বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে করা মামলার রায়ই এখনো হয়নি। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর গত সাত বছর ধরে এ দেশে রয়েছে।
গতবছর ৯ ডিসেম্বর ৫৪ ধারার একটি মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দাউদ মার্চেন্টের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে, যা বছরের শেষভাগে গণমাধ্যমে আসে।
মুম্বাইয়ের সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট আন্ধেরি এলাকার একটি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই মামলায় সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনি দাউদ মার্চেন্ট গ্রেপ্তার হলে ২০০২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দাউদ আপিল করে। ২০০৯ সালে ১৪ দিনের পারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পালিয়ে যায় দাউদ।
ওই বছরের ২৮মে ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এক সহযোগীসহ দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের পুলিশ। পাসপোর্ট আইনে মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।
ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাউদ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিলেন। ভারতের অপরাধ জগতের আলোচিত ডন দাউদ ইব্রাহিম বাংলাদেশে নিজের কর্মকাণ্ড বিস্তারের জন্য দাউদ মার্চেন্টকে এ দেশে পাঠিয়েছে।