ছাত্রীকে হয়রানী ও অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর আদাবর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে তেজগাঁও পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এসআই রতনের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগের কথা শুনেছি— ঘটনা শোনার পরপরই রাতেই তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয়া হয়েছে।
ডিসি আরো বলেন, ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না—অপরাধ করলে তার শাস্তি পেতে হবেই প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ পরিদর্শক (এডিসি) আনিসুজ্জামানকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্য হলেন তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) হাফিজ আল ফারুক।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরবর্তী নির্দেশনা ও তদন্ত রিপোর্ট না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত এসআই রতন কুমার কাজে যোগদান করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।
পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের সামনে আশা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে হেনস্তা করার অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই ছাত্রীকে রিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর অপচেষ্টাও চালান এসআই রতন।
ওই তরুণীর অভিযোগ, রোববার বিকালে ক্লাস শেষ করে রিকশায় শিয়া মসজিদের দিকে যাওয়ার পথে এসআই রতন তার পথ আটকায়। এরপর তল্লাশির কথা বলে ওই পুলিশ সদস্য তাকে একটি দোকানের ভিতরে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে শাটার টেনে দেন।
সে বারবার জানতে চায়- আমার স্বামী কোথায়। না বললে ইয়াবা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়। আমি বারবার মহিলা পুলিশ বা আশপাশের কোনো মহিলার সামনে অথবা থানায় নিয়ে তল্লাশি করার অনুরোধ জানালেও সে তা করেনি। এ সময় অশ্লীল কথাবার্তা বলা ছাড়াও উনি আমাকে হোটেলের পতিতা এবং ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করেন।
ওই যুবদল নেতা অভিযোগ করেন, এসআই রতন তার স্ত্রীর শরীর থেকে জোর করে জ্যাকেট খুলিয়ে সেই জ্যাকেট হাতে নিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করেন।
অন্যদিকে হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-পরিদর্শক রতন বলেন, স্বামী বিস্ফোরক মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ায় ওই নারী আগে একবার থানায় গিয়েছিলেন। তখনই তাদের পরিচয় হয়।
ওই যুবদল নেতা বর্তমানে জামিনে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই বলে জানান রতন।