রাজধানীর কেরানীগঞ্জে শিশু আবদুল্লাহর হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
বুধবার রোহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামে আবদুল্লাহর বাড়িতে যাওয়ার পর শিশুটির বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির কথা বলেন মন্ত্রী।
আবদুল্লাহকে অপহরণের ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরিকে (জিডি) মামলা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে ও চার জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সকাল থেকে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে সন্দেহভাজন মোতাহারকে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। আবদুল্লাহর মায়ের বড় মামা মোতাহার হোসেন অর্থাৎ, সম্পর্কে তিনি শিশুটির নানা।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ মামলার তদবির করব— নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই আর এ পরিবারের জন্য যা করার আমি সব করব।’
এ সময় আবদুল্লার মা রিনা বেগম ও বাবা বাদল মিয়া মন্ত্রীর কাছে ছেলে হত্যার বিচার চান এবং অবিলম্বে মোতাহারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ জানান, গত শুক্রবার রাতেই শিশুটির নানা মারফত আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এখন এ জিডিকে মামলা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোতাহার হোসেনের ছেলে মেহেদী হোসেন, মেয়ে নিতু আক্তার, প্রতিবেশী সৌদিপ্রবাসী মো. জসিমউদ্দিনের ছেলে মো. আল আমিন ও প্রতিবেশি মো. খোরশেদ আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. আবদুল্লাহ (১১) নিখোঁজ ছিল। তাকে খুঁজতে থানা-পুলিশ হয়েছে। বিস্তর খোঁজখবর করা হয়। একপর্যায়ে মুঠোফোনে তাকে অপহরণের দাবি করে দুই দফায় দুই লাখ টাকা নেয় অপহরণকারীরা। এরপরও শিশুটিকে ফেরত দেয়নি তারা। গতকাল মঙ্গলবার আবদুল্লাহদের বাড়ির মাত্র ১০০ গজ পশ্চিমে মোতাহার হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা আবদুল্লাহর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকে মোতাহার পলাতক।