রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী এলাকায় পুলিশের লাঠির আঘাতে স্টোভ ফেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর এক চা-বিক্রেতা দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) ৩ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তারা হলো: মিরপুর শাহআলী থানার এসআই মমিনুর রহমান, এসআই নিয়াজ উদ্দীন মোল্লা, এএসআই দেবেন্দ্র নাথ ও কনস্টেবল জসিম উদ্দীন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর জোনের ডিসি কাইমুজ্জামান খান বলেন, বিকেলে তাদের প্রত্যাহার করা হয় বলে
দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবুল মাতুব্বর (৪৫) নামের ওই চা-বিক্রেতা। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক।
সকালে চা বিক্রেতা দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখাসহ অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
এদিকে, বাবুলের স্বজনদের অবিযোগ, বুধবার রাতে পাঁচ পুলিশ সদস্য শাহআলী এলাকায় গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশের লাঠির আঘাতে দোকানের চায়ের দোকানের কেরোসিন স্টোভ থেকে আগুন ছড়িয়ে দগ্ধ হন বাবুল।
এ ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার পুলিশের মিরপুর জোনের উপকমিশনার মাসুদ আহমেদকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি কাইমুজ্জামান খানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাবুলের পরিবার।
চা বিক্রেতা বাবুল মাতুব্বরের মৃত্যুর ঘটনায় ডিএমপি সদরদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এক সদস্যের ওই কমিটির প্রধান হলেন: ডিএমপির উপকমিশনার (শংখলা) টুটুল চক্রবর্তী। তাকে এ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, পুলিশসহ সাত জনকে আসামি করে রাজধানীর শাহআলী থানায় মামলা করেছে নিহতের স্বজনরা।