আজ ১১ ফেব্রুয়ারি—চার বছর আগে এ দিনেই সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে রাজধানীর রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়—পরদিন ছুরিকাঘাতে ক্ষতবিক্ষত দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ওইসময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারেরর আল্টিমেটাল দিয়েছিলেন। শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয় তৎকালীন অনেক মন্ত্রীই আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের খুনিদের গ্রেপ্তারে নানা আশ্বাস দিলে কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন আজো দেশের জন ড়ণ দেখতে পাননি।
সময়ের স্রোতে ৪৮ ঘণ্টা এখন তা দিন গুণে গুণে দাঁড়িয়েছে ৪৮ মাসে—এ আলোচিত হত্যাকাণ্ডের কোনো কূল কিনারা পায়নি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
সেই সময় থেকে সাগর-রুনির পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিক সমাজদীর্ঘ আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন না হওয়ার হতাশা প্রকাশ করেছে। দিনটি ফিরে আসলে অনেক সভা সেমিনার ও মানববন্ধনন করা হয় কিন্তু হত্যা রহস্য উৎঘাটন রহস্যেই থেকে যাচ্ছে।
দীঘ ৪ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার কারণ ও খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যা ব সবাই তদন্ত করেও মামলাটির কুল কিনারা করতে পারেনি। যদিও র্যা ব বলছে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
গতবছরও তারা এ একই কথা বলেছিল— তাই ভরসা পাচ্ছেন না স্বজনরা। তাদের ক্ষোভ আর হতাশার বেড়েই চলেছে।
থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ব্যর্থতার পর আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্ত করছে র্যা ব। এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে। ৩২ বার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে র্যা ব।
এদিকে, সন্দেহজনক বলে গ্রেপ্তার করে ৭ জনকে রাখা হয়েছে কারাগারে। র্যা ব বলেই চলেছে, খুব শিগগিরই মামলার তদন্তের চুড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবে তারা।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে সেই সময় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে সেই মামলা থানা পুলিশ পরে তা ডিবিতে (গোয়েন্দা পুলিশ) গড়ায়। ডিবিও হত্যার মোটিভ বের করতে ব্যর্থ হওয়ায় তা পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিলে র্যা বে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে র্যা ব।
ইতিমধ্যে একাধিকবার বদল করা হয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও। সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলামত পাঠিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়েছে। মামলার তদন্ত সংস্থার কাছে সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনও এসেছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
সাংবাদিক এ দম্পতির মধ্যে সাগর সারোয়ার ছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। এ দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘ।
উল্লেখ, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার আর এটিএন বাংলার সিনিয়ন রিপোর্টার মেহেরুন রুনি দম্পতি।