মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে রাজশাহীর পবায় দুই কিশোরকে ধরে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে ভিডিও প্রকাশ ও মামলার পর একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে পবা থানায় এক সেনা ও একজন র্যাব সদস্যসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার কিশোর জাহিদের বাবা।
পবা থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোববার ভোরে উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রাম থেকে আজিজুর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিটুনিতে আহত দুই কিশোরের মধ্যে জাহিদ হাসান বাগসারা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তাকে পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পিটুনির শিকার আরেক কিশোর ইমনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।
তিনি বলেন, জাহিদের বাবা বাগসারা এলাকার ইমরান আলী শনিবার রাতে ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন এরপর ভোরে আজিজুর রহমান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পবা থানার এসআই আবু তাহের জানান, আসামিদের মধ্যে নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সার্জেন্ট— তিনি বগুড়া ক্যান্টনম্যান্টে দায়িত্বরত। আর পুলিশ কনস্টেবল সাগর বর্তমানে র্যা ব সদরদপ্তরে আছেন। দুজনেই ছুটিতে চৌবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
জাহিদের বাবা ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী রাকিবের একটি মোবাইল ফোন চুরি যায়— এ ঘটনায় আরেক প্রতিবেশী মাসুদ আলীর ছেলে ইমনকে ধরে আনে রাকিব। এরপর তারা ইমনকে মারধর করলে সে মোবাইল চুরির দায় জাহিদের উপর চাপিয়ে দেয়।
ইমরানের অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে জাহিদ নানার বাড়ি যাওয়ার পথে রাজশাহী বিমানবন্দরের সামনে থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় নাসির, সাগর, পলাশ, জামাল, রাজ্জাক, অনিক ও তুহিনসহ কয়েকজন যুবক।
তারা হাত-পা বেঁধে রাত ১০টা পর্যন্ত আমার ছেলেকে মারধর করে— এ ঘটনা ভিডিও করে রেখে পরে ছেলেকে আমার হাতে ফিরিয়ে দেয়।
মামলা করার পর থেকে আসামিরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ইমরান আলী।
উল্লেখ, এর আগে সিলেটে শিশু রাজন ও খুলনায় রাকিব হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে বিচার শেষ হওয়ার তিন মাসের মাথায় নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটল।